সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

আইনের শাসন লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

হত্যাচেষ্টার মামলা কি আপসযোগ্য?

এক্সিম ব্যাংকের দুই কর্মকর্তাকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে করা মামলার আপসনামা আদালত গ্রহণ করায় অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন সিকদার ভ্রাতৃদ্বয়—রন হক ও দিপু হক। আদালতসূত্র উদ্ধৃত করে পত্রিকার খবর বলছে, এক্সিম ব্যাংকের দুই কর্মকর্তাকে হত্যাচেষ্টার মামলা তদন্ত করে সম্প্রতি রন হক সিকদার ও তাঁর ভাই দিপু হক সিকদারের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয় পুলিশ। মামলার বাদী এক্সিম ব্যাংকের পরিচালক লে. কর্নেল (অব.) সিরাজুল ইসলামের কাছে আদালত জানতে চান, পুলিশের দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদন এবং উভয় পক্ষের আপসনামায় কোনো আপত্তি আছে কি না? এতে বাদীর কোনো আপত্তি না থাকায় আদালত পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করেন। মামলার এজাহারে অভিযোগ ছিল, গত বছরের ৭ মে ৫০০ কোটি টাকা ঋণ প্রস্তাবের বিপরীতে বন্ধকি সম্পত্তি পরিদর্শনের নামে এক্সিম ব্যাংকের দুই কর্মকর্তাকে রন হক সিকদার গুলশানে তাঁদের প্রধান কার্যালয় থেকে তুলে নিয়ে যান। এক্সিম ব্যাংকের ওই দুই কর্মকর্তা—এমডি মুহাম্মদ হায়দার আলী মিয়া ও অতিরিক্ত এমডি মুহাম্মদ ফিরোজ হোসনেকে একটি অ্যাপার্টমেন্টে বন্দী করে রাখেন রন হক সিকদার ও তাঁর ভাই দিপু সিকদার। তাঁদের গুলি করে হত্যার চেষ্...

নাপিত, শিল্পী ও সাংসদের মামলা নিয়ে প্রশ্ন

  ঢাকার বাইরের জেলা সেশন আদালতে কর্মরত একজন বিচারক সাম্প্রতিক তিনটি মামলার বিষয়ে আমার কাছে কিছু প্রশ্ন করেছেন, যেগুলোর উত্তর আমিও খুঁজছি। মামলাগুলো বহুল আলোচিত না হলেও সংবাদমাধ্যমে কিছুটা হলেও তা জায়গা পেয়েছে। বেশিরভাগ বিতর্ক হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে। মামলা তিনটির দুটির ক্ষেত্রে সমালোচনার তীর তাক করা হয়েছে পুলিশের দিকে, আর অন্যটির ক্ষেত্রে দূর্নীতি দমন কমিশনের দিকে। সমালোচনার অনেকটাই যৌক্তিক। তবে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা বা ন্যয়বিচার নিশ্চিত করার দায়টা শুধু পুলিশ কিম্বা দূর্নীতি দমন কমিশনের নয়, রাষ্ট্রের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানেরও রয়েছে। আর, সেই সব প্রতিষ্ঠান কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখছে সেই প্রশ্নটি মোটেও উপেক্ষণীয় নয়। প্রথম ঘটনাটি হচ্ছে একজন নাপিতের বিরুদ্ধে একজন নারী চিকিৎসকের পিতার অপহরণ মামলা। ওই নারী চিকিৎসক তাঁর বাবার পরিচিত নাপিতের প্রেমে পড়েছিলেন এবং বাবার আপত্তির কারণে এলাকা ছেড়ে বিয়ে করে ঢাকায় সংসার করছিলেন। তাঁদের একটি সন্তানও রয়েছে, যার বয়স বছর দেড়েক। অর্থাৎ, দুজন প্রাপ্তবয়স্কের দাম্পত্যজীবনের প্রায় আড়াইবছর পর পুলিশ স্বামীটিকে অপগরণের অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ...

বিচারহীনতায় দৃষ্টান্তমূলক সাজার প্রশ্ন

  মূলধারার সংবাদমাধ্যমে ছাপা না হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বহুল প্রচারিত কয়েকটি ছবির কথা না বললেই নয়। যে ছবিগুলোর কথা এখানে উল্লেখ করতে চাই, সেগুলোতে উঠে আসা কথাগুলোর গুরুত্ব আলাদা। ছবি দুটোই শাহবাগ থানার সামনে। একটিতে কয়েকজন মেয়ে বিভিন্ন বক্তব্য লেখা পোস্টার ধরে দাঁড়িয়ে আছে। একটিতে একজন পুলিশ একজন প্রতিবাদকারীর খুব কাছে গিয়ে পোস্টার পড়ছে। পোস্টারগুলোয় লেখা ছিল ‘এখানে ধর্ষণের বিচার পাওয়া যায় না’, ‘বাহ পুলিশ চমৎকার, ধর্ষকদের পাহারাদার’। প্রতিবাদকারীদের পোস্টারের বক্তব্যগুলো পুলিশকে ক্ষুব্ধ করেছে, সন্দেহ নেই। কিন্তু এগুলো যে নিষ্ঠুর সত্য, সে কথা তো অস্বীকার করা যাবে না। আইন আছে, আইনের শাসন নেই; আইন প্রয়োগের প্রতিষ্ঠান আছে, কিন্তু দলীয়করণ আর দুর্নীতির কারণে তা অকার্যকর; সরকার আছে, যার কোনো জবাবদিহি নেই। বছর দুয়েক আগে নিরাপদ সড়কের দাবিতে যে শিক্ষার্থীরা আলোড়িত করেছিল, তারাও কিন্তু রাষ্ট্রকে অসুস্থ বলে রাষ্ট্র মেরামতের কথা বলেছিল। নোয়াখালীর সুবর্ণচরের কথা কজনার মনে আছে, জানি না। পছন্দমতো ভোট দেওয়ার কারণে ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর রাতে চার সন্তানের এক জননীকে ক্ষমতাসীন দলের লোকজন স্বামী-স...

গণতন্ত্রের গুরুতর অবক্ষয়ের কাল

বিশ্ব জুড়ে গণতন্ত্রের অব্যাহত অবক্ষয়ের মধ্যে অনেক দেশেই গণতন্ত্র দিবস উদযাপন পরিহাস বৈ কিছু নয়। অন্তত যেসব দেশে গণতন্ত্রের অবক্ষয় হয়েছে এবং রাজনৈতিক ও মৌলিক অধিকারের দিক থেকে নাগরিকরা মুক্ত নন অথবা আংশিক মুক্ত, সেই সব দেশের নাগরিকদের কাছে সেরকমই মনে হওয়ার কথা। গণতন্ত্র বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা প্রতিষ্ঠান ফ্রিডম হাউজের ২০২০ সালে প্রকাশিত হিসাবে, গতবছরে গণতন্ত্রের ক্ষয়প্রাপ্তি ঘটা দেশের সংখ্যা ৬৪টি। কিন্তু, প্রতিবছর ১৫ সেপ্টেম্বর আর্ন্তজাতিক গণতন্ত্র দিবস উদযাপন করা হচ্ছে। জাতিসংঘ দিবসটি পালন করে আসছে গত ১৩ বছর ধরে। এ উপলক্ষ্যে দেওয়া বিবৃতিতে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস বলছেন কোভিড মহামারির সময়ে বিশ্ব জুড়েই গণতন্ত্রের ওপর আরও বেশি আঘাত এসেছে, সরকারগুলো অনেক বেশি কর্তৃত্ববাদি হয়ে উঠছে। গণতন্ত্রে ভিন্নমত গুরুত্বর্পূণ। কিন্তু, সংকটের সময়ে, বিশেষত মহামারির মত সর্বগ্রাসী সংকটে অসহিষ্ণু শাসকদের কাছে ভিন্নমত সহনীয় না হওয়ারই কথা। সমস্যা হচ্ছে ভিন্নমত প্রকাশের অধিকারকে সুরক্ষা দেওয়ার প্রতিষ্ঠানগুলোও এখন অকার্যকর ও দূর্বল করে ফেলা হয়েছে। আবার, রাজনৈতিক বিকল্প হয় অনুপস্থিত, নয়তো নেতৃত্...