সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

জনমত জরিপ লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

একটি জরিপ, নৈরাশ্য ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রশ্ন

উন্নত গণতন্ত্রে সরকার , সরকারপ্রধান, ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দল এবং বিভিন্ন বিতর্কিত ইস্যুতে প্রায়ই জনমত জরিপ করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। কখনো বিশ্ববিদ্যালয়, কখনো সংবাদমাধ্যম, আবার কখনো বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এসব জরিপ করায়। বেশ কিছু পেশাদার জরিপকারী প্রতিষ্ঠানও আছে, যারা শুধু জরিপের কাজ করে। এসব জরিপ আমাদের গণমাধ্যমগুলোর অনলাইন ভোটের মতো নয়, যা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শুধু সেই ওয়েবসাইটের নিয়মিত ব্যবহারকারীদের মতামত ছাড়া আর কিছুই নয়। আমাদের দেশে গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তনের প্রায় দুই দশক বার্ষিক জরিপে রাজনীতির গতিপ্রকৃতির চমৎকার প্রতিফলন দেখা যেত। কিন্তু গণতন্ত্রের ক্ষয়সাধনের সঙ্গে সঙ্গে সেই চর্চা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ব্যবসায়িক প্রয়োজন ছাড়া অন্য কোনো বিষয়ে জরিপ করতে গেলে সরকারের সায় আছে কিনা সেটা দেখা হয়, নইলে পেশাদার বিশেষজ্ঞরা বা তাঁদের প্রতিষ্ঠানগুলো ওই দায়িত্ব নিতে চান না। কথা বলার ভয়ের মতো মতামত জানতে চাওয়াতেও এক ধরনের ভয়ের আসর পড়েছে। গণতন্ত্র প্রসারে কাজ করা যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট, আইআরআই এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। তারা এখনো মাঝে মধ্যে স্পর্শকাতর রাজন...

চমকপ্রদ এক জরিপের কথা

বাংলাদেশে ৭৭ শতাংশ মানুষের ইন্টারনেটে সংযোগ নেই, কিন্তু ৭১ শতাংশই দৈনিক ইন্টারনেট ব্যবহার করেন এবং ফেসবুকে অ্যাকাউন্ট আছে ৮৭ শতাংশের। ৭৮ শতাংশের খবরের উৎস টেলিভিশন, আর সোশ্যাল মিডিয়া মাত্র ৪ শতাংশের। ৭১ শতাংশ বাংলাদেশী গত একবছরে ( সেপ্টেম্বরের আগে) কাউকে কোথাও ঘুষ দেন নি। ৪৮ শতাংশ বাংলাদেশী অবাধে রাজনৈতিক মতামত প্রকাশ করতে পারেন এবং ৩৯ শতাংশ মানুষ বিশ্বাস করেন বিএনপি ও আওয়ামী লীগ তাদের রাজনৈতিক বিরোধ ভুলে একসঙ্গে কাজ করতে পারবেন। জাতীয় পর্যায়ে পরিচালিত এক জরিপে উঠে আসা এসব পরিসংখ্যান যদি আপনার বিশ্বাস হয় তাহলে আপনি নিশ্চিত হতে পারেন দেশের ৮৩ শতাংশ মানুষ সরকারকে সমর্থন করছে এবং আপনার এলাকার সাংসদ ৭৬ শতাংশ মানুষের চোখে ভালো অথবা খুব ভালো। আর, হ্যাঁ, গণমাধ্যমের ভূমিকাও ঠিক আছে বলে মনে করেন ৫৮ শতাংশ। আমার কথা বিশ্বাস না হলে আগামীকাল নিশ্চয়ই সংবাদপত্র পাঠ করার পরে বিশ্বাস হবে? জরিপটি ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনিস্টিটিউটের। স্মরণ রাখা ভালো, আইআরআই ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের আগের জরিপে আওয়ামী লীগের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতার আভাষ দিয়েছিল। এই জরিপ প্রকাশের সময় অবশ্য তারা বলেছে বিতর্কিত নির...

জনমত জরিপ ও নির্বাচনী ইশতেহার

বাংলাদেশে অনেক দিন ধরেই নির্বাচনকেন্দ্রিক স্বাধীন, বস্তুনিষ্ঠ ও বিশ্বাসযোগ্য জনমত জরিপ হয় না। সেদিক থেকে বেসরকারি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান ব্র্যাকের জরিপটি কিছুটা হলেও জনমানসের গতি-প্রকৃতির ওপর আলোকপাত করেছে। নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের ইশতেহারকে দেশের ৮৩ শতাংশ মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করে এবং প্রায় ৭ শতাংশ ইশতেহারের আলোকে ভোট দেন—এটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। ভোটের হিসাবে প্রধান দুই দলের সমর্থনের হার খুব কাছাকাছি হওয়ায় এই ৭ শতাংশ ভোটও নির্বাচনের ফল ঘুরিয়ে দিতে পারে। বলে রাখা ভালো যে বেসরকারী উদ্যোগে দেশীয় কোনো ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠান জনমত জরিপের উদ্যোগ না নিলেও ক্ষমতাসীন দলের অনেকগুলো নিজস্ব জরিপের কথা আমরা  শুনেছি। এরকম একটি সাম্প্রতিক জরিপে কোন দল সম্ভাব্য কত আসন বা কত শতাংশ ভোট পেতে পারে তাঁরা শুধু সেটুকু তথ্য প্রকাশ করলেও পুরো জরিপটি প্রকাশ না করায় তার খুঁটিনাটি জানা যায় নি। ফলে, অনেক প্রশ্নেরই উত্তর মেলেনি। ব্র্যাকের জরিপের ফল বলছে, এই নির্বাচনে ভোটাররা পাঁচটি ইস্যুকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন, যার শীর্ষে আছে কর্মসংস্থান—প্রায় ২৮ শতাংশ। এরপর যথাক্রমে পরিবহন, শিক্ষা, সুষ্ঠু নির্বাচন এ...