সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

মানবাধিকার লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

মানবাধিকার লংঘন আড়াল না করলে দপ্তরে আপত্তি কেন?

  বাংলাদেশের রাজনীতির এ এক অদ্ভুত প্রকৃতি। যাদের সহায়তা গতকাল অপরিহার্য বিবেচিত হয়েছে, আজ তাদের উদ্দেশ্য নিয়ে অবিশ্বাস্য সব ষড়যন্ত্রতত্ত্বের পেছনে ছোটা। দীর্ঘ দেড় দশকের স্বৈরশাসনের আমলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন ঘটনায় যাদের সমর্থনের আশায় উন্মুখ হয়ে থাকতে দেখা যেত কিংবা যাদের বিবৃতি উদ্ধৃত করে বলা হতো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের দুঃশাসনকে প্রত্যাখ্যান করেছে, এখন সেই জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের (ওএইচসিএইচআর) উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। বাম ও ডানপন্থী, ধর্মবাদী ও ধর্মনিরপেক্ষ—বিপরীতমুখী রাজনৈতিক দলগুলো যেন একই মোহনায় মিলিত হচ্ছে। আরও দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে, ছাত্র ও গণ-অভ্যুত্থানের নেতারাও এ থেকে মুক্ত হতে পারছেন না। হেফাজতে ইসলাম, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা ঢাকায় জাতিসংঘ মানবাধিকার সংস্থার দপ্তর খোলার পেছনে ‘গভীর ষড়যন্ত্র’ খুঁজে পেয়েছেন। ডয়চে ভেলে হেফাজতের নায়েবে আমির মাওলানা মহিউদ্দিন রাব্বানীকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, ‘তারা এখানে অফিস করলে সমকামিতা উৎসাহিত হবে। তাহলে তো সভ্যতা থাকবে না। তারা কাদিয়ানি (আহমদিয়া), সংখ্যা...

গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের বয়ান নিয়ে ধন্দে আছি

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থার নিয়মিত পর্যালোচনায় ৯০ ভাগের মতো দেশ বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির অগ্রগতির প্রশংসা করে গঠনমূলক সুপারিশ করেছে। আইনমন্ত্রীর এই প্রায় বিশ্বজয়ে মন্ত্রিসভার অন্যরা নিশ্চয়ই ঈর্ষান্বিত হচ্ছেন! তবে আমি অবাক হচ্ছি, উনি শতভাগ না বলে ৯০ শতাংশ কেন বললেন? পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জেনেভা থেকে ভিডিও সংযোগে যুক্ত হয়ে আনিসুল হক যে বক্তব্য দিয়েছেন, তার রিপোর্টগুলো আবারও মনোযোগ দিয়ে পড়লাম। দেখলাম তিনি বলেছেন; কানাডা ও স্লোভাকিয়া বাংলাদেশের মানবাধিকার নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও বেলজিয়াম—এরা সবাই আমাদের অগ্রগতির প্রশংসা করেছে।  প্যালেস দ্য নেশনস–এর দ্য হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড অ্যালায়েন্স অব সিভিলাইজেশনস রুমে পর্যালোচনা অধিবেশনের পুরোটা সময় আমি ছিলাম। আমি ভুল শুনেছি কি না, তা যাচাইয়ের জন্য জাতিসংঘের ওয়েব টিভিতে থাকা অনুষ্ঠানের ভিডিও আবারও শুনলাম। কানাডার প্রতিনিধি মিস ওয়ালেসকা রিভেরার মুখে কোনো সমালোচনা আমি শুনতে পেলাম না। আপনারাও শুনে দেখতে পারেন। স্লোভাকিয়ার দুসান মাতুলের বক্তব্যের শুরুতে ত...

সেলফি কূটনীতি, বাণিজ্য ও নির্বাচনী রাজনীতি

কূটনৈতিক পরিসরে গেল সপ্তাহ ছিল বাংলাদেশের জন্য সম্ভবত সবচেয়ে ঘটনাবহুল, নজরকাড়া ও আলোচিত। বহু দশক পরে ঢাকার মাটিতে পা ফেলেন ইউক্রেন আগ্রাসনের জন্য প্রায় একঘরে হয়ে পড়া রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ। তারপর শিল্পোন্নত ও উদীয়মান অর্থনীতিগুলোর জোট জি ২০–এর শীর্ষ সম্মেলনে আয়োজক ভারতের আমন্ত্রিত অতিথি হিসাবে প্রধানমন্ত্রী শেথ হাসিনা দিল্লি যান, যেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক ছাড়াও আরো বেশ কয়েকজন সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়। তবে সবকিছু ছাপিয়ে আলোচনায় ওঠে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বাইডেনের সেলফি তোলা এবং যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাকের বিশেষ সৌজন্য প্রকাশের ঘটনা।  ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা নিয়ে যতটা কৌতুহল ও জল্পনা ছিল, তা ততটা আলোচিত হলো না। এরপর ঢাকায় ঝটিকা সফরে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল এমানুয়েল মাখোঁ বাংলাদেশিদের মন জয় করতে যা করে গেলেন, তার রেশ এখনও তরতাজা। কয়েকটা দিন যে সরকারের জন্য বেশ ফুরফুরে ছিল, সন্দেহ নেই। তবে তার স্থায়িত্ব নিশ্চিত নয়। যুক্তরাষ্ট্র যখন বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের বিষয়ে নজর দেওয়ার জন্য...

গণতন্ত্র সম্মেলন: কর্তৃত্ববাদ মোকাবিলার নীতি কতটা গুরুত্ব পাচ্ছে

  এ লেখা যখন পড়ছেন, তখন বহুল আলোচিত প্রেসিডেন্ট বাইডেনের আহুত দ্বিতীয় গণতন্ত্র সম্মেলনের প্রথম দিনের বক্তব্য সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে আপনারা জেনে গেছেন। আলাদা করে যুক্তরাষ্ট্রের এই গণতন্ত্র সম্মেলন আয়োজন নিয়ে গত দু’বছর ধরে অনেক বিতর্কই হয়েছে। বিতর্ক এখনও চলছে, তবে ভিন্ন অগ্রাধিকার নিয়ে। দ্বিতীয় সম্মেলনটি এক বছর পর হওয়ার কথা থাকলেও তা তিন মাস পিছিয়েছে। সমালোচকেরা অবশ্য সময়ের দিক থেকে পেছানো নয়, সম্মেলনের লক্ষ্য অর্জনে পিছিয়ে থাকার দিকেই আঙ্গুল তুলেছেন। ফরেন অ্যাফেয়ার্স সাময়িকীতে যুক্তরাষ্ট্রেরই গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ট্রুম্যান সেন্টার ফর ন্যাশনাল পলিসির ভাইস–প্রেসিডেন্ট জন টেমিন লিখেছেন, দ্বিতীয় গণতন্ত্র সম্মেলনের কোনো প্রয়োজন ছিল না, প্রয়োজন হচ্ছে কর্তৃত্ববাদ মোকাবিলার নীতি। মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোও বলছে, সম্মেলনে অংশ নেওয়া দেশগুলোর অনেকেই যে গণতন্ত্রের ক্ষেত্রে উন্নতি করেছে, তার তেমন একটা প্রমাণ নেই। সেখানে যারা যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা বাস্তবায়নে অগ্রগতি যাচাইয়েরও কোনও আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেই। প্রথম সম্মেলনটি হয়েছিল ২০২১ সালের ৯ ও ১০ ডিসেম্বর। তখন অবশ্য বাংলাদেশে চাঞ্চল্য তৈরি হয়  র‍...

বিদেশি কূটনীতিকদের হস্তক্ষেপ বিতর্কে কিছু প্রশ্ন

  নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে এলে কিম্বা রাজনীতিতে সংকট তৈরি হলে ঢাকায় কূটনীতিকদের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক নতুন কিছু নয়। এসব কূটনীতিকে কার সঙ্গে কথা বলছেন, কোথায় কী মন্তব্য করছেন – এগুলো বেশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। তবে অতীতের তুলনায় বর্তমান সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের মধ্যে এ বিষয়ে অসহিষ্ণুতা ও অস্থিরতা নতুন মাত্রা পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাস গুমের শিকার পরিবারগুলোর সংগঠন ’মায়ের ডাক’ –এর সংগঠক সানজিদা ইসলামের বাসায় তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য গেলে সেখানে এক অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। রাষ্ট্রদূত যখন সে বাসায় গেলেন, তখন সেখানে মায়ের কান্না নামের অন্য আরেকটি সংগঠনের সদস্যরা একটি স্মারকলিপি নিয়ে হাজির হন। ১৯৭৭ সালে তখনকার সামরিক শাসক জেনারেল জিয়ার বিরুদ্ধে  অভূত্থান ও পাল্টা অভ্যূত্থানের পালায় নিহত এবং বিতর্কিত সামরিক বিচারে ফাঁসি হওয়া সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যদের পরিবারগুলো সেসব ঘটনার তদন্ত ও বিচারের দাবিতে সংগঠিত হয়ে গড়ে তুলেছে ’মায়ের কান্না’ নামের সংগঠন। সম্ভাব্য হাঙ্গামার আশঙ্কায় বৈঠক শেষ না করেই রাষ্ট্রদূত হাসকে সেখান থেকে চলে যেতে হয়।  ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরকারের শীর্ষ পর্...

কূটনীতিকেরা কি সত্যিই বাড়াবাড়ি করছেন

১৪ নভেম্বর জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) এক আলোচনায় বলেছেন, সরকার অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করবে বলে তাঁদের জানিয়েছে। তাই আগামী নির্বাচনে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো অংশ নেবে বলে তাঁর আশা। ইতো নাওকি এটুকু বলে থেমে গেলে ক্ষমতাসীন দলের নেতারা যে খুশি হতেন এবং বিরোধী দল বিএনপিকে জাপানি রাষ্ট্রদূতের আহ্বানে ইতিবাচক সাড়া দেওয়ার আহ্বান জানাতেন, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায়। সাম্প্রতিক ইতিহাস সেরকমই স্বাক্ষ্য দেয়।  চলতি বছরের ৬ এপ্রিল ওয়াশিংটনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিঙ্কেনের সঙ্গে তাঁর আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বিএনপিকে নির্বাচনমুখী করতে সহায়তা করার অনুরোধ জানিয়ে এসেছিলেন। তারও অনেক আগে ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জেনারেল এরশাদকে নির্বাচনে অংশ নেওয়াতে  ভারতের তৎকালীন পররাষ্ট্রসচিব সুজাতা সিংকে তদবির করার ব্যবস্থা করে দিয়ছিলেন তাঁর পূর্বসুরিদেরই একজন। তিনি বা তাঁর ডেপুটি কিম্বা মন্ত্রণালয়ের অন্য কোনো কর্মকর্তা বিদেশি কূটনীতিকদের ভিয়েনা কনভেনশনের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার...

গুম না হয়ে থাকলে স্বাধীন তদন্তে আপত্তি কেন

গুমের অভিযোগ নিয়ে জোর আলোচনার মধ্যে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে সরকারের একটা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেছে। `গুম` শব্দটি ব্যবহার না করে সরকার বলেছে, কোনো ব্যাক্তি নিখোঁজ বলে জানানো হলে স্বজনদের দেওয়া তথ্য যথাযথ আইন অনুযায়ী তদন্তসাপেক্ষে ভুক্তভোগীকে উদ্ধারে সরকার বদ্ধপরিকর। সরকারের এ বক্তব্যে কি কিছুটা নতুনত্ব আছে? যদিও একই সঙ্গে বলা হয়েছে,  গুমের শিকার বলে ধারণা করা ব্যাক্তি অনেক ক্ষেত্রেই ফেরত এসে প্রমাণ করেছে গুমের অভিযোগ ঠিক নয়। সরকার যাদের `নিখোঁজ` বলছে, তাদের উদ্ধারের জন্য তদন্ত, অর্থাৎ অভিযোগে পাওয়া তথ্যগুলো যাচাইয়ের প্রয়োজনের কথাটা আগে শোনা যায়নি, বরং তাকে ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের অপপ্রচার বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ অন্য মন্ত্রীরা দেশের ভিতরে রাজনৈতিক বক্তৃতায় এখনো একই কথা বলে চলেছেন। অভিযোগের তদন্ত প্রয়োজন, সে কথা স্বীকার করতে চান নি। তদন্ত কেন প্রয়োজন, তা মানবাধিকার পরিষদে দেওয়া সরকারের বক্তব্যে কিছুটা হলেও উঠে এসেছে। যখন বলা হচ্ছে, 'দুষ্কৃতকারীরা' আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে 'অপহরণ'-এর মতো অপরাধে লিপ্ত হচ্ছে বলে একটি প্র...

গুমের শিকার পরিবারগুলোর দুঃখের কথা শুনুন

আজ থেকে ১২ বছর আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে জোর করে তুলে নেওয়া বা গুমের ঘটনা বাড়তে থাকায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে একটি প্রস্তাব পাশ করেছিল। সাধারণ পরিষদের ৬৫/২০৯ নম্বর প্রস্তাবটিতে গুমের অংশ হিসাবে গ্রেফতার, আটক, এবং অপহরণের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল এবং গুমের শিকার ব্যাক্তির পরিবারগুলোর প্রতি হয়রানি, দূর্ব্যবহার এবং ভীতি প্রদর্শনের কথাও বলা হয়েছিল। ওই প্রস্তাবেই গুমের শিকার হয়েছেন যাঁরা, তাঁদের পরিবারগুলোর উদ্দেশে প্রতিবছর ৩০ আগষ্ট আন্তর্জাতিক দিবস পালনের সিদ্ধান্ত হয়। প্রস্তাবটি যখন জাতিসংঘে গৃহীত হয়েছে, তখন বাংলাদেশে গুম কথাটি তেমন একটা শোনা যায়নি। কিন্তু গত প্রায় এক দশকে গুম বারবার সংবাদ শিরোনামে ফিরে আসছে। আর সাম্প্রতিক বছরগুলেতে গুমের শিকার পরিবারগুলোর কান্না ও ভয়ার্ত চেহারাও আমরা বারবার দেখছি।  ১৯৭২ সালে জহির রায়হানকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাটিকে এখন অনেকেই গুম বলে সংজ্ঞায়িত করে বলেন যে সেটাই ছিল স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম গুমের ঘটনা। তবে গুম বলতে এখন যা বোঝানো হয়, তা মূলত সরকারের কোনো বাহিনী কর্তৃক তুলে নিয়ে যাওয়াকেই বোঝানো হয়। আর বেসরকারি কোনো গোষ্ঠী বা অ...

ব্যাশেলেতের সফরে মানবাধিকারের কিছু হবে কি

মানবাধিকার বিষয়ে জাতিসংঘের সর্ব্বোচ্চ কর্মকর্তা হাইকমিশনার মিশেল ব্যাশেলেত বাংলাদেশে চার দিনের যে সফর করে গেলেন, তাতে দেশে মানবাধিকার পরিস্থিতিতে কোনো ইতিবাচক প্রভাব পড়বে কি না, পড়লে কতটুকু, তা আগামী দিনগুলোতে বোঝা যাবে। তবে সফরটি ঘিরে যেহেতু সরকার ও মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা বৈশ্বিক সংগঠনগুলো তাদের প্রত্যাশার কথা আগেই জানিয়েছে, তাই এর প্রাথমিক একটা মূল্যায়ন হওয়া দরকার। বিশেষতঃ সফর শেষে তিনি যে বিবৃতি দিয়েছেন, তাতে সরেজমিন সফরে কূটনৈতিক ও একান্ত আলোচনাগুলোয় তিনি আমাদের মানবাধিকার সম্পর্কে কেমন ধারণা নিয়ে গেলেন, তার প্রতিফলন মেলে।  মিশেল ব্যাশেলেতের সফর-সমাপনী সংবাদ-সম্মেলনের বিবৃতিটি কেন গুরুত্বপূর্ণ, তা আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তার উদ্ধৃতি থেকেই বোঝা যায়। নাম প্রকাশ না করা ওই জ্যেষ্ঠ্য কর্মকর্তার মতে মিস ব্যাশেলেত তাঁর মেয়াদ শেষ করার আগে আগামী মাসে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের সভায় যে বক্তৃতা দেবেন, তাতে বাংলাদেশের কথা থাকবে এবং সেই বক্তব্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম আলো ওই প্রতিবেদনে পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেনকে উদ্ধৃত করে জানায়, ‘জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের স...

`অধিকার`-এর অধিকার হরণে অবিশ্বাস্য যুক্তি

বাংলাদেশ সরকার দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি মানবাধিকার সংগঠন `অধিকার`-এর নিবন্ধন নবায়নে অস্বীকৃতি জানানোর পর বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের কাছে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে একটি ব্যাখ্যা পাঠিয়েছে। ইনফরমেশন নোট নামে ৮ জুন পাঠানো এ ব্যাখ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অধিকারের আবেদনের কথিত কিছু ত্রুটি ও অতীত কার্যক্রমের `বিভিন্ন অনিয়ম` এর তালিকা তুলে ধরেছে, যাকে সংগঠনটির বিরুদ্ধে সরকারের অভিযোগের ফিরিস্তিও বলা যায়। প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদন নবায়নের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয় ৫ জুন এবং মাত্র তিনদিনের মধ্যে আন্তর্জাতিক পরিসরে যে প্রতিক্রিয়া প্রকাশ পায়, ধারণা করা অন্যায় হবে না যে তার মাত্রা উপলব্ধি করে সরকার এ ব্যাখ্যা প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বলে রাখা দরকার, এ ধরনের পদক্ষেপ মোটেও স্বাভাবিক কিছু নয়।  ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত ও তার পরের বছরে সরকারের রেজিস্ট্রেশন পাওয়া বেসরকারি সংগঠন অধিকারের কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি নবায়নের আবেদনটি ২০১৪ সালের। কিন্তু তার অনুমতি নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে আট বছর পর। সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে অধিকার তার আবেদন নিষ্পত্তির জন্য আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার তিন বছর পর, যখন দীর্ঘ নীরবতার...