সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

আইনমন্ত্রী লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন: বাতিল ছাড়া অপব্যবহার বন্ধ হবে কীভাবে

  গত প্রায় সাড়ে চার বছরের মামলার যেসব হিসাব বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও গবেষকরা করেছেন, তাতে স্পষ্ট হয়েছে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রয়োগ হয়েছে মূলত সরকার কিম্বা ক্ষমতাসীন দলের সমালোচনা এবং মুক্তচিন্তা দমনে। এসব মামলার অধিকাংশই হয়েছে নেতা কিম্বা রাষ্ট্রের মর্যাদাহানির অভিযোগ তুলে। তারপর আছে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ। মামলায় সংক্ষুব্ধ পক্ষ সব সময় রাষ্ট্র বা সরকার না হলেও সরকারের মদদপুষ্ট কিম্বা ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে সম্পর্কিত ব্যাক্তিরা। আইনটি ভিন্নমত, সমালোচনা ও মুক্তচিন্তা দমনে সবচেয়ে কার্যকর হাতিয়ার হয়ে উঠেছে যে কারণে তা হলো, আইনটির অনেকগুলো ধারাই অজামিনযোগ্য। ফলে কাউকে শিক্ষা দিতে হলে জেলের ভাত খাওয়ানোর এক মোক্ষম অস্ত্র হচ্ছে এটি, যেমনটি এককালে ছিল বিশেষ ক্ষমতা আইন।  ঈদের ছুটির আগে ট্যাবলয়েড পত্রিকা মানবজমিনে পাশাপাশি দুটো সংবাদ প্রকাশ করেছিল। ’ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা’ অভিন্ন শিরোনামের নিচে পাশাপাশি ছাপা হওয়া সংবাদ দুটির নিজস্ব শিরোনাম ছিল যথাক্রমে – ’মেয়েটার কিডনিতে সমস্যা’ এবং ’ঋণ করে ছেলের মামলার খরচ যোগাচ্ছি’। মামলায় অভিযুক্ত দুজন সদ্য কৈশোর পেরুনো তরুণ–তরুণীর ...

ডিজিটাল আইন প্রয়োগে `বিশেষ ছাড়`, পুরোপুরি বাতিল নয় কেন?

`ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সাংবাদিককে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার নয়: আইনমন্ত্রী` শিরোনামে ৩০ ডিসেম্বর প্রথম আলোয় প্রকাশিত সংবাদটি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ঘিরে চলমান বিতর্কের আলোকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৮ সালে নির্বাচনের আগে সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীদের উদ্বেগ-আপত্তি উপেক্ষা করে তড়িঘড়ি এই আইনটি পাশ করা হয়। আপত্তিগুলো যে অমূলক ছিল না, তা আইনটির বহুল অপপ্রয়োগে ইতিমধ্যেই প্রমাণ হয়ে গেছে।  আইনমন্ত্রী কথাগুলো যাঁদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, তাঁরা ওভারসিজ করেসপনডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ওকাব)-এর সদস্য। অর্থাৎ, বিদেশি সংবাদমাধ্যমগুলোর মাধ্যমে তিনি বিদেশিদের কাছেও আইনের বিষয়ে কিছু বার্তা দিতে চেয়েছেন। এই আইনটির বিষয়ে বিদেশিরা বিশেষত পাশ্চাত্যের দেশগুলো এবং গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানগুলোও প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে সরকারের কাছে তাদের উদ্বেগ জানিয়ে এসেছে।   ওকাবে আইনমন্ত্রীর বক্তব্যকে কেউ কেউ তাৎক্ষণিকভাবে সতর্ক সাধুবাদও জানিয়েছেন। সাংবাদিকদের জন্য তিনি কিছুটা ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানানোর কারণেই তাঁকে তাঁরা সাধুবাদ জানিয়েছেন।  কিন্তু দুঃখজন...

আনিস, হারিসের দণ্ড মওকুফ কেন স্বাভাবিক নয়

আল-জাজিরার অল দ্য প্রাইম মিনিস্টারস মেন তথ্যচিত্রটির কয়েকটি তথ্যের বিষয়ে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন ব্যক্তি অতিসম্প্রতি আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাবলি প্রকাশ করে আমাদের কিছু বিষয় জানার সুযোগ করে দিয়েছেন। ইন্টারনেটের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম থেকে তথ্যচিত্রটি সরিয়ে নিতে আদালতের আদেশ জারির পরই আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছ থেকেই আমরা এসব অজানা কথা জানতে পারলাম। অবশ্য, এর মধ্যে প্রথম আলোও দুটি প্রতিবেদনে অনেক তথ্য প্রকাশ করেছে, যা আলোচনার পরিধিকে অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে আইন-আদালতের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি যোগসূত্র যে দুজন মন্ত্রীর, তাঁদের বক্তব্য আরও অনেক নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে, যেগুলো মোটেও উপেক্ষণীয় নয়। সেনাবাহিনী রাষ্ট্রের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান এবং এর প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদার স্পর্শকাতরতা বিবেচনায় অনেকেই এ-সম্পর্কিত আলোচনা এড়িয়ে যান। বিশেষ করে ব্যক্তির সঙ্গে প্রতিষ্ঠানকে মিলিয়ে ফেলার কারণে তা আরও কঠিন হয়ে পড়ে। মন্ত্রীরা এ বিষয়ে মুখ খোলায় এখন অবশ্য এই আলোচনা অনেকটাই সহজ হলো। নতুন প্রশ্নগুলো আলোচনার আগে সংক্ষেপে তথ্যগুলো ও ঘটনাক্রম স্মরণ করা ভালো। প্রথম আলোর প্রতিবেদন দুটির তথ্য হ...