সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

দলীয়করণ লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

দলীয় রাজনীতি আদালতকে যেখানে নিয়ে গেছে

উপমহাদেশের জনপ্রিয় গণসঙ্গীত শিল্পী প্রয়াত সলিল চৌধুরী তাঁর গানে গেয়েছিলেন, ’বিচারপতি তোমার বিচার করবে যারা আজ জেগেছে সেই জনতা’। তিনি তাঁর ৭০ বছরের জীবদ্দশায় তা দেখে যেতে পেরেছেন কিনা বলতে পারি না। তবে বাঙ্গালি এই শিল্পীর লেখা, সুর দেওয়া ও গাওয়া গানের বাস্তবরুপ আমরা যে দেখতে পেলাম, তা কোনো দিন আমাদের কল্পনাতেও আসেনি। তা–ও এমন এক অভূতপূর্ব পরিস্থিতিতে ঘটলো, যার দায় রাজনৈতিকভাবে আওয়ামী লীগ ও তার প্রধান শেখ হাসিনার এবং বিচার বিভাগের দিক থেকে সেই সব বিচারপতির, যাঁরা নিজেদের ন্যয়বিচারের প্রতিভূ ভাবার বদলে ’শপথবদ্ধ রাজনীতিবিদ’ ভাবতে গর্ববোধ করতেন।  আদালতের দলীয়করণ নিয়ে গত দেড় দশকে বহুবার আমরা আমাদের উদ্বেগের কথা বলেছি। তবে অনেকটাই ভয়ে ভয়ে। কেননা শপথবদ্ধ রাজনীতিক পরিচয় ধারণ করা যে ভূল , এই কথাটি বলার জন্য আমরা জ্যেষ্ঠ্ আইনজীবিদের বিরুদ্ধেও আদালত অবমাননার বিচার করতে দেখেছি। এর আগেও আদালতের বিচ্যূতি বা ভূল–ভ্রান্তি নিয়ে লেখালেখি সাংবাদিকতার জন্য বাড়তি ঝুঁকির কারণ হয়েছে, তা–ও লিখেছি। ২০১৯ সালের ১৯ মে প্রথম আলোয় লিখেছিলাম ”সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ে আদালত অবমাননার আইন বাতিল হয়ে যাওয়ার পর থেকে স...

আমলাদের রাজনীতি ও রাজনীতির পেশাজীবী

বরিশালের মেয়রের সমর্থকদের সঙ্গে সেখানকার বিদায়ী ইউএনওর বিরোধের যে ভাষ্য সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, সেটাই সত্য, না-কি তার বাইরেও কিছু ছিল, তা হয়তো আমাদের আর কখনোই জানা হবে না। কেননা, প্রশাসনের সঙ্গে স্থানীয় রাজনীতিকদের আপসরফা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার ব্যাক্তিদের মুক্তি দেওয়াও শুরু হয়েছে। ঘটনার তদন্ত কিংবা বিচারপ্রক্রিয়ায় সত্য প্রকাশের সম্ভাবনার ইতি ঘটেছে। তবে সেখানকার জেলা প্রশাসকের `ইউএনওকে যে আঘাত করে, সে প্রধানমন্ত্রীকে অপমান করে` মন্তব্যটিতে আভাস মিলছে, প্রশাসন তার দাপট বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর। আর সেই লক্ষ্য অর্জনে তাঁরাও `প্রধানমন্ত্রীর লোক` পরিচয় ব্যবহারে দ্বিধা করেন না। প্রশাসন ক্যাডারের সমিতির বিবৃতির ভাষা নিয়ে ব্যপক সমালোচনার পরও সমিতির একজন সদস্য জেলা প্রশাসকের এমন বক্তব্যকে জনমতকে বুড়ো আংগুল দেখানো ছাড়া আর কী বলা যায়?  প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন বিবৃতি কী ছিল, যা এত বিতর্কের জন্ম দিয়েছে? বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বাসভবনে হামলার ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সমিতি বলেছিল, `রাজনৈতিক দুর্বৃত্ত`দের আইনের মাধ্...

মানবাধিকারের দৈন্য কাটবে কি

আট বছর আগে পোশাক কারখানায় লেলিহান আগুন থেকে বাঁচতে যে নাসিমা কিম্বা জরিনা বেগমরা তাজরিনের জানালা থেকে লাফিয়ে পড়ে জীবন বদলে দেওয়া ক্ষত নিয়ে বেঁচে আছেন, তাঁদের পাওনা এবং ক্ষতিপূরণ আজও মেলেনি। এই দীর্ঘসময়ে তাঁরা বিচারও পাননি। বাংলাদেশের আইন, আদালত কিম্বা প্রশাসন তাঁদের এসব ন্যূনতম নাগরিক অধিকার পূরণ করতে পারেনি। আশি দিন ধরে তাঁরা রাজপথে তাঁদের অধিকার আদায়ের দাবিতে অবস্থান ধর্মঘট করছিলেন। দাবি কিম্বা প্রতিবাদ জানানোর সাংবিধানিক অধিকার সত্ত্বেও ভোররাতে তাঁরা যখন প্রেসক্লাবের সামনের ফুটপাতে ঘুমাচ্ছিলেন, তখন পুলিশ তাদের মারধর করে উঠিয়ে দিয়েছে। পুলিশের বক্তব্য আইনগত ক্ষমতাবলে তারা রাস্তায় জনচলাচল স্বাভাবিক রাখতে অননুমোদিত প্রতিবাদ বন্ধ করেছে। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ মাত্রাতিরিক্ত শক্তিপ্রয়োগ করে অপসারণের ক্ষমতা কোন আইনে আছে, সেকথার জবাব অবশ্য পুলিশের কাছে মিলবে বলে মনে হয় না। তাজরিন ছাড়াও এ ওয়ান বিডি নামের আরও একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরাও সেখানে ছিলেন, যাঁরা তাঁদের ঘামের মজুরি পান নি এবং প্রায় বছরখানেক ধরে ঘুরছেন। ছিলেন কিছু এবতেদায়ী মাদ্রাসা এবং কিছু প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, যাঁদের দাবি হচ...