সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

গণতন্ত্রহীনতা লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

স্থানীয় নির্বাচনের আগে ভোটে আস্থা ফেরান

গত মঙ্গলবার যে দ্বাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সুছনা হয়েছে, তার বর্ণনায় দুটি দৈনিকের শিরোনাম বেশ চোখে পড়ে। দেশের অন্যতম পুরোনো দৈনিক ইত্তেফাক লিখেছে, ’অন্য রকম এক সংসদের যাত্রা শুরু’। আর বাংলা ট্যাবলয়েড মানবজমিন শিরোনাম করেছে ’আজব কিসিমের পার্লামেন্ট”। এ দুটো শিরোনামে নির্বাচনের পরও যে দেশের রাজনৈতিক সংকট অব্যাহত আছে এবং সহসা তা থেকে পরিত্রাণের সম্ভাবনা নেই, তা পাঠককে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। থবরের ভেতরে শিরোনামের ব্যাখ্যাও মেলে। ২৯৯ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে মধ্যে এক হিসাবে ২৮০, অন্য হিসাবে ২৮২ জন আওয়ামী লীগের নেতা। বিরোধী দল নামের যাঁরা আছেন, তাঁরাও আওয়ামী লীগের ছাড় দেওয়া আসনের প্রতিনিধি। ফলে যে নামেই ডাকা হোক, এটি একটি একদলীয় সংসদ।  অরাজনৈতিক নাগরিক সংগঠন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল, বাংলাদেশের (টিআইবি) ভাষায় যা ছিল, অর্থবহ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষহীন নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী, একই দলের ‘স্বতন্ত্র’ ও অন্য দলের সরকার সমর্থিত প্রার্থীদের “পাতানো খেলা”। এটিকে তারা  বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনের ভবিষ্যতের জন্য “অশনিসংকেত” বলে বর্ণনা করেছে। নির্বাচন বর্...

করোনাকালীন বাজেটের রাজনৈতিক পর্যালোচনা

মহামারির সময়ে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখাই যখন রোগের সংক্রমণ বন্ধের একমাত্র উপায়, তখন পারিবারিক এবং সামাজিক যোগাযোগে মোবাইল ফোন এবং ইন্টারনেট কতটা অপরিহার্য্য তা বোঝাতে ব্যাখ্যার অপেক্ষা রাখেনা। সেই মোবাইল ফোন ব্যবহারের ওপর কর বাড়ছে। আরও বস্তুনিষ্ঠভাবে বললে বলতে হয়, ফিবছর মোবাইল ব্যবহারের ওপর করের বোঝা চাপানোর কৌশল থেকে সরকার বিচ্যূত হয়নি। এই সিদ্ধান্তের সাফাই দিতে গিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান বলেছেন অপ্রয়োজনীয় কথা বলার প্রবণতা খুব বেড়ে গেছে। কথা বলতে বলতে রেলের নীচে চাপা পড়ে মারা যায়। রাজস্ব আদায়ের দায়িত্বে থাকা শীর্ষ আমলার এই বক্তব্যে দুটো বিষয় পরিষ্কার। প্রথমত: সরকার চায় মানুষ কম কথা বলুক। ভিন্নমতের প্রতি অসহিষ্ণু সরকার স্বাধীন মতপ্রকাশের পথকে যে ক্রমাগত সংকুচিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, রাজস্বপ্রধানের বক্তব্যে তারই প্রতিধ্বনি ঘটেছে বলে ধরে নেওয়া যায়। তাঁর দ্বিতীয় যুক্তিতে ধারণা মেলে, রেলের নীচে অসর্তকতার কারণে টেলিফোনে কথা বলতে বলতে যাঁরা চাপা পড়ে মারা গেছেন, মোবাইলে কথা বলা সস্তা না হলে তাঁদের হয়তো এমন করুণ পরিণতি হতো না। ট্রেনে কাটা পড়া মানুষটি কোনো মানসিক চাপের মধ্য...

বৈষম্যের উন্নয়নে বাজেট

উন্নয়নের অর্থনীতিতে দেশে বৈষম্য বেড়েছে এবং এখনো বাড়ছে - এবিষয়ে কারোরই দ্বিমত করার অবকাশ নেই। সরকারের পরিসংখ্যানের ওপর ভিত্তি করেই দেশের অর্থনীতিবিদরা যেমন এই বৈষম্য বাড়ার বিষয়টির কথা বলেছেন, ঠিক তেমনই আর্ন্তজাতিক উন্নয়ন সহযোগীরাও বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার তাগিদ দিয়েছেন। এরকম বাস্তবতায় হঠাৎ করেই বাজেট নাটকীয়ভাবে দরিদ্রবান্ধব হবে অথবা ধনীদের ভোগ করতে থাকা রাষ্ট্রীয় সুবিধাগুলো কমবে বা বন্ধ হবে এমনটি যাঁরা আশা করেছিলেন তাঁদের আশাবাদের তারিফ করতে হয়। কিন্তু, একইসঙ্গে এই রুঢ় সত্যটাও বলা দরকার যে তাঁরা মোটেও বাস্তববাদী নন। বাজেটের বিষয়ে গত দু-তিনদিনে বিভিন্ন ব্যাক্তি-দল-গোষ্ঠীর প্রতিক্রিয়া দেখে মনে হয় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক   মানুষ বাজেটে ভিন্নতা আশা করেছিলেন। হতে পারে, অর্থমন্ত্রী হিসাবে দশবছরের ধারাবাহিকতায় ছেদ ঘটার কারণেই হয়তো এমন ধারণা। যাঁরা আশাহত হয়েছেন তাঁদের প্রতিক্রিয়াগুলোর একটি উদ্ধৃত করলে আলোচনাটা সহজ হবে : ‘‘ সংসদে উত্থাপিত প্রস্তাবিত বাজেটে ধনীদের প্রতি পক্ষপাতিত্ব দেখানো হয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতির সমৃদ্ধির পিছনে যাঁরা মূল শক্তি সেই কৃষক, শ্রমিক, নারী উদ্যোক্তারা ব...