সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

সংক্রমণ লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

সব লকডাউন মাটি হলো কেন

গত এপ্রিলের শুরু থেকে দেশে বিভিন্ন নামে যে লকডাউন চলছিল, সরকার তার ইতি টানার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কল-কারখানা, সরকারি-বেসরকারি অফিস, দোকানপাট – এগুলোর সবই খুলে দেওয়া হচ্ছে । প্রথমে ছিল সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোয় লকডাউন, তারপর জাতীয় পরিসরে সর্বাত্মক লকডাউন, অত:পর কঠোর লকডাউন এবং আরও কঠোর লকডাউন - এসবের অবসান ঘটছে। লকডাউনগুলোর বর্ণনায় সরকারের কর্তাব্যাক্তিরা যেসব বিশেষণ ব্যবহার করেছেন, তাতে যৌক্তিকভাবে ধারণা তৈরি হতে পারে যে আমরা করোনাকে পরাজিত করেছি। আর যদি পুরোপুরি পরাস্ত নাও হয়ে থাকে, তা অন্তত নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তৃতীয় আরেকটি সম্ভাবনাও থাকে। সেটি হচ্ছে বাস্তবে লকডাউন আর ধরে রাখা যাচ্ছে না বলেই তা আর কাগজে-কলমে রেখে দেওয়াটা  অর্থহীন মেনে নিয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে বিধিনিষেধের ইতি টানা হচ্ছে।   সরকারের গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটি এমন কোনো উপসংহারে পৌঁছেছেন কি না, তা অবশ্য জানানো হয়নি। তবে রোববার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ঘোষণায় বলা হয়েছে বুধবার থেকে সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিস, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্যবিধি মেনে খোলা থাকবে। সড়ক, রেল ও নৌপথে আসনসংখ্যার সমপরিমাণ...

সংক্রমণ মোকাবেলার প্রস্তুতি কি যথেষ্ট

ইতালিফেরতরাই ভয়ের কারণ কিম্বা হাসপাতাল ছেড়ে পালালেন করোনার রোগী শিরোনামগুলোতে পাঠকের মধ্যে কী ধারণা তৈরি হতে পারে? প্রথমটিতে মনে হবে ইতালিফেরতরা না আসলে বাংলাদেশ করোনামুক্ত থাকতো। আর, দ্বিতীয়টিতে মনে হয় করোনা ভাইরাস এমন একটি রোগ যাতে মৃত্যু অবধারিত অথবা রোগটির কথা প্রকাশ হয়ে পড়লে আক্রান্ত ব্যাক্তিকে সমাজে পরিত্যাক্ত হবেন। অথচ, দুটো ধারণাই ভুল।চীনে করোনা সংক্রমণের সময় সবার আগে ইতালি চীনের সঙ্গে বিমান যোগাযোগ বন্ধ করে দিলেও সংক্রমণ সীমান্ত মানেনি। বিশ্বের দেড়শোরও বেশি দেশি এই রোগের সংক্রমণ ঘটেছে এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ভাষ্য হচ্ছে, কোনো দেশ ‘ আমাদের এমনটি হবে না ‘ মনে করলে তারা একটি মারাত্মক ভুল করছে। আর, করোনায় আক্রান্ত হলেই মৃত্যু অবধারিত এই ধারণাও ভুল। করোনায় মৃত্যুর হার অন্যান্য ফ্লুর থেকে বেশি হলেও আক্রান্তদের ৯৫ শতাংশেরও বেশি বেঁচে আছেন। শতাংশের হিসাবে মৃত্যুর হার কম হলেও সংখ্যায় তা কম নয়। আর, অসুস্থদের মধ্যে যাঁদের অবস্থা গুরুতর হয়ে পড়ে তাঁদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার চাপ সামলানোর ক্ষমতা যেহেতু সব দেশের নেই, সেহেতু মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ এতো বেশি গুরুত্বর্...

শিগগির মুক্তি নেই মহামারি থেকে

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রেকর্ডে গতবছরের শেষ দিন, ৩১ ডিসেম্বর চীনের উহানে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের কথা প্রথম জানা গিয়েছিল। সেই হিসাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চীনের সময় লেগেছে দুই মাসেরও বেশি।   সেটাও সম্ভব হয়েছে কর্তৃত্ববাদি শাসনের কঠোর বিধিবিধান এবং তা প্রয়োগের মাধ্যমে। ইউরোপে এর সূত্রপাত গতমাসে এবং সংস্থার প্রধানের ভাষায় এই সংক্রমণের কেন্দ্রস্থল এখন ইউরোপ। পুরো ইউরোপেই এটি ছড়িয়ে পড়ছে এবং বিশেষজ্ঞদের কথা ও সরকারগুলোর গৃহীত নানা পদক্ষেপে ইঙ্গিত মিলছে সহসা এই রোগ থেকে মুক্তি নেই। স্বভাবতই, প্রশ্ন উঠছে কত দীর্ঘায়িত হবে এই বৈশ্বিক মহামারি।   করোনা ভাইরাস বিশ্বের বিভিন্ন মহাদেশে বিপজ্জনক মাত্রায় বিস্তৃত হতে শুরু করার পরও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ফেব্রুয়ারি মাসে এই রোগের সংক্রমণকে বৈশ্বিক মহামারি ঘোষণা করেনি। অথচ, ফেব্রুয়ারির শেষার্ধে বিশেষজ্ঞদের অনেকেই এরকম ঘোষণা প্রত্যাশা করেছিলেন। ২৬ ফেব্রুয়ারি সংস্থার তরফ থেকে বলা হয়েছিল যে বৈশ্বিক মহামারির সম্ভাব্যতা থাকলেও সংক্রমণ দমন করা যাচ্ছে না এমনটি মনে হচ্ছে না।তখন এমন কথাও বলা হয়েছিল যে অসর্তকভাবে বৈশ্বিক মহামারি বা প্যান্ডেমিক পরিভাষা ...