সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

ফারমার্স ব্যাংক লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

বর্ষসেরা ইংরেজি শব্দ ও বাংলাদেশের ব্যাংকিং

  বিশ্বের নানাপ্রান্তের নানা ঘটনায় এমন অদ্ভুত মিল পাওয়া যায় যে বিস্মিত না হয়ে উপায় থাকে না। মাত্র গেল সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ইংরেজি অভিধান ’মেরিয়াম ওয়েবস্টার’ জানিয়েছে যে চলতি বছরের সবচেয়ে বেশি যে শব্দটির অর্থ তাদের অনলাইনে খোঁজা হয়েছে, সেটা হচ্ছে গ্যাসলাইটিং। তাদের বিচারে তাই গ্যাসলাইটিং হচ্ছে ২০২২ সালের ওয়ার্ড অব দ্য ইয়ার বা বর্ষসেরা শব্দ। বছরজুড়ে অনলাইনে শব্দটির অর্থ খোঁজা বেড়েছে ১৭৪০ শতাংশ। তো শব্দটির মানে কী? ইংরেজি থেকে বাংলা করলে যেটা দাঁড়ায় তা হচ্ছে, নিজের সুবিধার জন্য কাউকে চরমভাবে বিভ্রান্ত করার চর্চা বা অনুশীলন। অন্যকে নিয়ন্ত্রণ বা তার কাছ থেকে  নিজের জন্য সুবিধা আদায়ে কারসাজি করা, চরম বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া বা সরাসরি প্রতারণা বোঝাতে শব্দটি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। মেরিয়াম ওয়েবস্টার এর সংজ্ঞায়ন করতে গিয়ে বলেছে, এটা হচ্ছে একজনকে দীর্ঘসময় ধরে মানসিকভাবে বিভ্রান্ত করা। ভুক্তভোগী ব্যাক্তিকে তার নিজস্ব চিন্তাভাবনা, বাস্তবতার উপলব্ধি কিম্বা স্মৃতির যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিভ্রান্ত করা অথবা  তার আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরানো এবং আত্মমর্যাদার ক্ষতিসাধন করে একজনের মানসিক স্থিতিশী...

ব্যাংক রক্ষার মানে কী

ব্যাংকিং খাতে ‘সুশাসন’ নিয়ে কথা কম হয়নি। কিন্তু যাঁদের এ ক্ষেত্রে তৎপর হওয়ার কথা, তাঁরা কোনো সমালোচনা গায়ে মেখেছেন বলে প্রমাণ মেলে না। ফারমার্স ব্যাংকের সংকট নিয়েও সরকার এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্পষ্টতই মাথা ঘামাতে চায়নি। কিন্তু বাগড়া দিয়েছে সংবাদমাধ্যম। রাজনৈতিক পরিচয়ের সুবাদে ব্যাংকিংয়ের লাইসেন্স পাওয়া উদ্যোক্তা পরিচালকেরা মাত্র তিন বছরের মধ্যেই ব্যাংকটিকে পথে বসানোর ব্যবস্থা করেছেন। আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে অক্ষম ব্যাংকটি তার কর্মচারীদের বেতন দেওয়ার সামর্থ্যও হারিয়ে ফেলেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত, জরিমানা এবং পরিদর্শন রিপোর্টের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ব্যাংকটির সংকট ঘনীভূত হওয়ার খবর যখন দু-একটি সংবাদপত্রের পাতায় ছাপা হচ্ছিল তখনো সরকার অনেকটা ভাবলেশহীন থাকল। রাজনীতিক মহীউদ্দীন খান আলমগীরের নেতৃত্বাধীন ফারমার্স ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ প্রতিষ্ঠানের কোটি টাকা খরচ করে দেশের শীর্ষস্থানীয় সব সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দিয়ে দাবি করল সংকটের কথা নিছকই অপপ্রচার। কিন্তু প্রায় একই সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমতি পাওয়ার আগেই তারা বন্ড ছেড়ে পাঁচ শ কোটি টাকা তোলার উদ্যোগ নিল। তাতেও সরকারের কারও টনক নড়ল ...

হায় হায় ব্যাংকের দায় কার?

ফারমার্স ব্যাংকের মরণদশার দায় কার? এই ব্যাংকটিসহ কথিত চর্তুথ প্রজন্মের নয়টি ব্যাংকের অনুমোদনের সময়ে (আওয়ামী লীগের আগের মেয়াদে) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গর্ভণর ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন গবেষণা বিভাগের অধ্যাপক আতিউর রহমান। রাষ্ট্রীয় মুদ্রাভান্ডারের প্রায় শত কোটি ডলার খোয়ানোর কৃতিত্বের অধিকারী এই সাবেক কেন্দ্রীয় ব্যাংকার বুধবার ২০ ডিসেম্বর বলেছেন ব্যাংকটিকে বাঁচাতে হলে এখনই ব্যবস্থা নিতে হবে ( ‘ ফারমার্স ব্যাংক বিষয়ে এখনই উদ্যোগ নিতে হবে ‘, প্রথম আলো, ২০ ডিসেম্বর, ২০১৭ ) । কি চমৎকার দায়িত্ববোধ! শুধুমাত্র রাজনৈতিক নির্দেশনায় প্রচলিত নিয়মনীতিগুলোর বেশিরভাগ উপেক্ষা করে জনসাধারণের কষ্টের আমানত লুটে নেওয়ার লাইসেন্স দেওয়ার জন্য তাঁর মধ্যে ন্যূনতম কোনো অনুশোচনা নেই। কোনোধরণের দু:খপ্রকাশ ছাড়াই তিনি সেই মৃত্যুপথযাত্রী ব্যাংককে বাঁচানোর জন্য সরকারকে পরামর্শ দিয়েছেন। যার মানে হচ্ছে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে জনগণের করের টাকা ব্যয় করা, যে টাকা ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শুণ্যের কোটায়।  ফারমার্স ব্যাংকের এই অধ:পতনের জন্য অনেকেই দায়ী করছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতকে। আদর্শ গণতন্ত্রে ন...