সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

গুজব লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

গণমাধ্যম যেভাবে অদৃশ্য প্রভাবমুক্ত গণমাধ্যম হবে

শেখ হাসিনার স্বৈরতান্ত্রিক শাসন অবসানের ছাত্র–জনতার আন্দোলনে অন্তত তিনজন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন বলে  নিশ্চিত হওয়া গেছে। আহতের সংখ্যা অনেক। তবে নিশ্চিত করে কোনো সংখ্যা কোনো কর্তৃপক্ষীয় সূত্র বা সংগঠন এখনও জানাতে পারেনি। সাংবাদিকেরা প্রধানত: পুলিশ ও সরকারসমর্থক অস্ত্রধারীদের হামলার শিকার হয়েছেন। অন্দোলনের সব শহীদ ও আহতদের মতোই সাংবাদিক হত্যা ও জখমের ঘটনাগুলো নিন্দনীয় এবং এগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার হওয়া প্রয়োজন। হতাহতদের জন্য ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থাও প্রয়োজন।  তবে দু:খজনক অধ্যায় হলো, কিছু কিছু ক্ষেত্রে সাংবাদিকেরা আন্দোলনকারীদের ক্ষোভের লক্ষ্য হয়েছেন। কয়েকটি টিভি চ্যানেল ও পত্রিকার অফিস আক্রান্ত হয়েছে, তাদের সম্প্রচার ও প্রকাশনা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। খুলনায় প্রেসক্লাব পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামসহ আরও কয়েকটি জায়গায় প্রেসক্লাবে হামলা ও অগ্নিসংযোগের চেষ্টা হয়েছে। এসব ঘটনা কেন ঘটলো, গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনকারীরা কেন এসব জায়গা রোষের আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলো, সেই আত্মজিজ্ঞাসা খুবই জরুরি। পেশাদার ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতায় ঝুঁকি আছে, এ কথা সত্য। তবে সেই ঝুঁকির কারণ ক্ষমতাধরদের জবাবদিহি আদ...

মহামারির প্রস্তুতি নিয়ে লুকোচুরি ও গণমাধ্যম

বৃহস্পতিবার ঘুম থেকে উঠেই দেখি ঢাকার এক বন্ধু আমাকে তথ্য মন্ত্রণালয়ের একটি চিঠির কপি পাঠিয়েছেন। চিঠির বিষয়বস্তু তখনও ঢাকার কোনো গণমাধ্যমে খবর হিসাবে আসেনি। খবরটি হচ্ছে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিহত বিষয়ে প্রচারণা/ গুজব মনিটরিং করার জন্য ১৫ জন উপ ও সহকারী সচিব এবং একজন সিস্টেম অ্যানালিস্টকে দেশের ৩০টি বেসরকারী টিভি চ্যানেলের দায়িত্ব ভাগ করে দিয়েছে তথ্য মন্ত্রণালয়। চিঠিটি থেকে জানা গেল যে মন্ত্রণালয়ের করোনা প্রতিরোধকরণে প্রচার প্রচারণা সংক্রান্ত কমিটি গত ২৪ মার্চ বৈঠক করে যেসব সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তার আলোকেই এসব দায়িত্ব বন্টন। মনিটরিংয়ে গুজব চিহ্নিত হলে তা বন্ধ করার জন্য মন্ত্রণালয়ে জানানোর যে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছিল, স্বভাবতই তা সাংবাদিকদের মধ্যে চাঞ্চল্য তৈরি করে। দিন পেরোনোর আগেই বিরুপ প্রতিক্রিয়ার মুখে চিঠিটি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। তবে, নজরদারির জন্য একটি সেল যে থাকছে, তা নিশ্চিত করা হয়েছে। যেসব চ্যানেলের ওপর নজরদারির সিদ্ধান্ত হয়েছিল, সেগুলোর প্রায় সবই সরকারঘনিষ্ঠ। সরকারসমর্থক চ্যানেলগুলোর ওপর নজরদারির উদ্যোগ প্রত্যাহারের প্রকাশ্য ঘোষণা যদি একটি নিরীহ ভুল শুধরে নেওয়ার আন্তরিক প্র...

গুজব, বিকল্প সত্য ও মানবাধিকার

সপ্তাহ খানেক আগে গুজব ছড়িয়ে গণপিটুনিতে মানুষ মারার খবরগুলো যখন আর সহ্য করা যাচ্ছিলো না, তখন ক্ষমতাধরদের কেউ কেউ ডেঙ্গুর প্রকোপ বিষয়ক খবরগুলোকেও গুজব অভিহিত করেছিলেন। যদিও সামাজিক মাধ্যম তখন ডেঙ্গু আক্রান্ত – বিশেষ করে যন্ত্রণা-কাতর শিশুদের কান্নার ছবিতে সয়লাব। ফলে, গুজবের দোহাই সমস্যাকে আড়াল করার চেষ্টা ছিল কিনা, সেই প্রশ্নও উঠেছিল। কিন্তু, মাত্র দিন দুয়েকের মধ্যেই কোনো এক রহস্যের টানে ডেঙ্গুতে প্রাণহানি আর দূর্ভোগ যে কতটা ব্যাপক, তা স্বীকার করে নিতে নিয়ন্ত্রিত ভোটের মেয়রদ্বয় বাধ্য হয়েছেন। সারাক্ষণ তিনপ্রস্থ পোশাক পরিধানের কারণে এডিস মশা হয়তো দক্ষিণের মেয়রের শরীরের নাগাল পায় নি। কিন্তু, অর্থমন্ত্রীর কপাল মন্দ। এই মশার শুঁড়ে কত যে জ্বালা তিনি তা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছেন। আমার আলোচ্য অবশ্য ডেঙ্গু নয়, সুতরাং ও প্রসঙ্গ থাক। ডেঙ্গুর কথা উঠলো গুজবের সূত্র ধরে। গুজবের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরির মহান দায়িত্ব নিয়ে একদল সাংবাদিক ৩ দিন ধরে ঢাকায় বিশেষ কার্য্যক্রম পরিচালনা করেছেন বলে সংবাদপত্রগুলোতে খবর ছাপা হয়েছে। সংসদ প্রতিবেদকদের এই অভাবনীয় উদ্যোগের তারিফ না করে উপায় নেই। যে সংসদে সরকারের মনোনয়...