সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

জুলাই সনদে কী থাকছে, কী থাকা উচিত

 জুলাই ঘোষণাপত্র বা সনদ ঘিরে বেশ কিছুদিন ধরেই আলোচনা চলছে। বিশেষ করে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন যেসব গুরুত্বপূর্ণ ও মৌলিক সংস্কারের প্রস্তাব নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনায় বসে সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছে, তার পটভূমিতে এই সনদের গুরুত্ব ধীরে ধীরে কিছুটা স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। তবে সনদে শেষ পর্যন্ত কী কী থাকবে, সে সম্পর্কে সুষ্পষ্ট ধারণা পেতে আমাদের হয়তো আরও কিছুদিন অপেক্ষায় থাকতে হবে।


গত ৬ জুন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুস জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে  জুলাই মাসেই একটি ‘জুলাই সনদ’ প্রস্তুত করে জাতির সামনে উপস্থাপনের আশাবাদ প্রকাশ করছেন। তাঁর বর্ণনায় ’এই জুলাই সনদ হলো একটি প্রতিশ্রুতি। একটা জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র নির্মাণের জন্য সংস্কার কমিশন যে প্রস্তাবগুলো দিয়েছে সেগুলোর মধ্য থেকে রাজনৈতিক দলগুলো যে কয়টিতে একমত হয়েছে তার তালিকা থাকবে এই সনদে। জুলাই সনদে স্বাক্ষর করে তারা জাতির কাছে সেগুলো বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করবে।”


আমরা জানি, গণ–অভ্যূত্থানপ্রসূত অর্ন্তবর্তী সরকার সম্ভাব্য সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে ১১টি বিষয়ে কমিশন গঠন করেছিল। তবে দুই পর্যায়ে এগুলো গঠিত হয়েছে – প্রথমে ছয়টি এবং পরে আরও পাঁচটি। দুই দফায় গঠিত কমিশনগুলোর সুপারিশমালা জমাও পড়েছে দুটি আলাদা সময়ে। প্রথম পর্যায়ের ছয়টি কমিশনের সুপারিশমালা নিয়ে তাই তখনই জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া শুরু হয়। তাদের সুপারিশগুলোর কোনগুলোতে রাজনৈতিক দলগুলো সবাই একমত কিংবা ভিন্নমত থাকলে, তা কোথায় এবং আলোচনার মাধ্যমে মতভেদ দূর করার চেষ্টা যে এখন চলছে, তা আমরা সবাই টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারের কল্যাণে প্রত্যক্ষ করছি।


যে ছয়টি কমিশনের সুপারিশমালা নিয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে, সেগুলো হচ্ছে: সংবিধান, নির্বাচন কমিশন, জনপ্রশাসন, বিচার বিভাগ, পুলিশ এবং দূর্নীতি দমন। অন্য যে পাঁচটি কমিশন কাজ করেছে, সেগুলো হচ্ছে, গণমাধ্যম, শ্রম খাত, নারী, স্বাস্থ্য খাত ও স্থানীয় সরকার সংস্কারবিষয়ক। দ্বিতীয় দফায় গঠিত কমিশনগুলোর সুপারিশ সম্পর্কে ঐকমত্য কমিশনকে কোনো দায়িত্ব না দেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে, এসব বিষয়ের সংস্কারে কি ঐকমত্যের প্রয়োজন নেই? নাকি ঐকমত্য ছিল এবং আছে, এখন তা শুধু বাস্তবায়নের অপেক্ষা? 


ঐকমত্য কমিশন গঠনের দুই থেকে চার মাস পর অন্য কমিশনগুলোর প্রতিবেদন জমা হওয়ায় কিছু সংস্কারের প্রস্তাব প্রাসঙ্গিক হওয়া সত্ত্বেও সেগুলো ঐকমত্য কমিশনের বিবেচনার জন্য পাঠানো হয়নি, বা তাদের নজরে আনা হয়নি। এখানে সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে গণমাধ্যম কমিশনের একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবের কথা বলা যায়। সংবিধানের ৩৯ (২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে : ”রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, বিদেশী রাষ্ট্রসমূহের সহিত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, জনশৃঙ্খলা, শালীনতা বা নৈতিকতার স্বার্থে কিংবা আদালত–অবমাননা, মানহানি বা অপরাধ সংঘটনে প্ররোচনা সম্পর্কে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধা–নিষেধ সাপেক্ষে ক. প্রত্যেক নাগরিকের বাক্ ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতার অধিকারের, এবং খ. সংবাদ ক্ষেত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দান করা হইল।”  


গণমাধ্যম কমিশন সুপারিশ করেছে: বাক্ স্বাধীনতা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতায় জাতীয় নিরাপত্তা ও বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের প্রশ্নে যুক্তিসঙ্গত বিধিনিষেধের বিষয়টি শুধুমাত্র যুদ্ধাবস্থায় কার্যকর হবে।


সংবিধান সংস্কার কমিশনের সুপারিশমালায় সংবাদমাধ্যমের জন্য এই অব্যাহতির বিষয়টি যেহেতু আসেনি, তাই ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায়ও এর স্থান নেই। একইভাবে গণমাধ্যম কমিশন সুইডেন ও সুইজারল্যান্ডের মতো সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ ও সূত্রের গোপনীয়তা রক্ষা এবং সাংবাদিকদের ব্যক্তিগত গোপানীয়তা লংঘন না করার অধিকার নিশ্চিত করার বিধান সংবিধানে যুক্ত করার যে প্রস্তাব করেছে, তা আলোচনায় আসছে না। কিন্তু দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি তাদের নিজস্ব প্রকাশনায় সাংবাদিকদের স্বাধীনতা রক্ষায় সুইডেনের মতো বিধান করার অঙ্গীকার করেছে। 


সংবিধান সংস্কার কমিশন মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রশ্নে আদালতের সমালোচনা করার অধিকার সংবিধানে অর্ন্তভুক্তির প্রস্তাব করেছে। কিন্তু আদালতের সমালোচনা এবং আদালত অবমাননার আইনগত সংজ্ঞায়ন স্পষ্ট করা না হলে তা যে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতায় কত বড় বাধা হয়ে রয়েছে, তা এই পেশায় নিয়োজিতদের চেয়ে কেউ ভালো জানে না। কমিশন তাই আদালত অবমাননার স্পষ্ট সংজ্ঞায়ন চেয়েছে এবং তা বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের সঙ্গে মতবিনিময়ে আলোচিত হয়েছে। ঐকমত্য কমিশনের তৈরি করা বিচারবিভাগ সংস্কারের সারসংক্ষেপে বিষয়টির কোনো উল্লেখ না থাকা হতাশারই বলতে হবে।


জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনার তালিকায় অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট ১৯২৩ সংশোধনের কথাও আছে এবং প্রস্তাবটি এসেছে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের সুপারিশের তালিকা থেকে। জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে দেখা যায়, উন্মুক্ত তথ্য নীতির অংশ হিসাবে অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টকে প্রয়োজনীয় সংশোধন করে  যুগোপযোগী করার কথা বলা হয়েছে।  প্রয়োজনীয় সংশোধন কী বা একাধিক সংশোধনী প্রয়োজন কি না, তার উল্লেখ নেই। বিষয়টি গণমাধ্যমের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। সেকারণে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন বলেছে, এ আইনের ৫ ধারা সংশোধন করে কেবল জাতীয় নিরাপত্তার উপর জোর দেওয়া উচিত এবং অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার জন্য জনস্বার্থের প্রশ্নে আইনি সুরক্ষার ব্যবস্থা সংযোজন করা উচিত।


সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে ’মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা’ অংশে সুপারিশ আছে ৪০টি, যেগুলো ঐকমত্য কমিশন সারসংক্ষেপ আকারে মোটাদাগে পাঁচটিতে এনে দলগুলোর কাছে তুলে ধরেছে। তাঁদের মূল সুপারিশে আছে চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতায় কোনো ধরণের সীমা আরোপ করা যাবে না, কিন্তু সারসংক্ষেপে তার উল্লেখ নেই। ঐকমত্যের আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা মূল সুপারিশগুলো আত্মস্থ না করে থাকলে সারসংক্ষেপ ধরে মতামত দিলে সমঝোতায় ঘাটতি থেকে যাওয়ার আশংকা প্রবল। 


কিছু কিছু ক্ষেত্রে জাতীয় ঐকমত্য যে অনেকদিন ধরেই রয়েছে, তা নিয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই। যেমন রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সম্প্রচার মাধ্যম – বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারের স্বায়ত্ত্বশাসনের প্রশ্ন। ১৯৯০ সালের গণ–অভ্যূত্থানের সময়ে তিন জোটের যে যৌথ ঘোষণা ছিল, তাতে এগুলোর স্বায়ত্ত্বশাসনের অঙ্গীকার ছিল। কিন্তু কেউ তা বাস্তবায়ন করেনি। এরপর যতবারই সরকার পরিবর্তনের আন্দোলন হয়েছে, প্রতিবারেই এই স্বায়ত্ত্বশাসনের দাবি তোলা হয়েছে। 


কিন্তু এসব কমিশনের সংস্কার প্রস্তাবের মধ্যে এমন বিষয়ও আছে যেগুলো সম্পর্কে রাজনৈতিক দলগুলোর সবার অবস্থান স্পষ্ট নয়, আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে বৈপরিত্যপূর্ণ। কিছু সংস্কারের প্রস্তাব অপরিসীম গুরুত্বের দাবি রাখে, কিন্তু তার বাস্তবায়ন সময়সাপেক্ষ, তাই সেগুলোর জন্য রাজনৈতিক অঙ্গীকার প্রয়োজন। শ্রমিকদের সংগঠন করার অধিকার সংবিধান স্বীকৃত বিধায় তা নিয়ে হয়তো নতুন করে ঐকমত্যের প্রশ্ন ওঠে না। কিন্তু ন্যূনতম জাতীয় মজুরি কিংবা কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে রাজনৈতিক অঙ্গীকার না থাকলে শ্রম খাতের সংকট দূর হবে কীভাবে? নতুন বন্দোবস্তের বাংলাদেশে এসব বিষয়ে শ্রমিকরা কার কাছে তাদের হিস্যা চাইবে? তাঁরা কাউকে কি প্রশ্ন করার সুযোগ পাবেন?


জুলাই সনদের যে আলোচনা, তার মূলে আছে বিদ্যমান রাজনৈতিক ক্ষমতাকাঠামো এবং পদ্ধতিগুলোর মধ্যে যেগুলো অগণতান্ত্রিক এবং স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থার সুযোগ তৈরি করে দেয়, সেগুলো বদলে দিয়ে গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আকাঙ্খা। আমাদের অভিজ্ঞতা বলছে, সংসদ, বিচারব্যবস্থা, জনপ্রশাসন, আইন–শৃঙ্খলাবাহিনীর পাশাপাশি গণমাধ্যমকেও স্বৈরতন্ত্রের সহায়ক হাতিয়ার করে ফেলা হয়েছিল কিম্বা তাদের অনেকে উৎসাহী সহযোগী হয়ে উঠেছিল। এক্ষেত্রে কাঙ্খিত সংস্কার না হলে তা জনস্বার্থের বদলে ব্যাক্তি, গোষ্ঠী ও রাজনৈতিক স্বার্থকেই রক্ষা করে চলবে। গণতন্ত্রকে প্রাণবন্ত ও কার্যকর করে তোলায় মুক্তবাজার অর্থনীতির যুগে শুধু রাষ্ট্রীয় প্রচারমাধ্যমের স্বায়ত্ত্বশাসন যথেষ্ট নয়। ব্যক্তিখাতে গণমাধ্যমে কালোটাকার দৌরাত্ম্য, প্রভাবক ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ এবং নৈতিক মানের অনুপস্থিতির মতো বিষয়গুলোতে কাঙ্খিত পরিবর্তনে বলিষ্ঠ পদক্ষেপ প্রয়োজন।    


জাতীয় ঐকমত্য কমিশন যেসব সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে সমঝোতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালাচ্ছে, তার তালিকা শুধু রাজনৈতিক দলগুলোর কাছেই পাঠানো হয়েছে। সবার জন্য তা কেন উন্মুক্ত করা হয়নি, তা বোধগম্য নয়। এই তালিকায় নেই, কিন্তু যেসব বিষয়ে পরিবর্তন না আনলে নতুন বাংলাদেশ নির্মাণ তো দূরের কথা, গ্রহণযোগ্য, স্বচ্ছ্ব ও নিরপেক্ষ নির্বাচনও সম্ভব নয়, গণমাধ্যমের সংস্কার সেরকম একটি বিষয়। গণমাধ্যম কীভাবে নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে, তার বিশদ আলোচনা গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে রয়েছে। সাধারণ নাগরিকদেরও ওইসব নজির বিস্মৃত হওয়ার কথা নয়। 


গণমাধ্যম সংস্কারের বিষয়টিকে তাই অগ্রাধিকার তালিকায় পেছনে ফেলে রাখা ভুল হবে। অন্তত যেসব সংস্কার জরুরি, কিন্তু সময়সাপেক্ষ হতে পারে, সেগুলোর বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সুস্পষ্ট অঙ্গীকার প্রয়োজন। প্রশ্ন হচ্ছে জুলাই সনদে তার স্থান হবে কি?


(২৬ জুন, ২০২৫ এর প্রথম আলো পত্রিকায় প্রকাশিত।)

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

রোহিঙ্গাদের জন্য মানচিত্র বদলের প্রস্তাব!

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গার স্বদেশে ফেরার বিষয়ে যেমনটি আশংকা করা হয়েছিল, তেমনটিই ঘটেছে। যত শিগগির সম্ভব তাদেরকে দেশে ফেরানোর কাজ শুরু হবে বলে মিয়ানমারের আশ্বাসে বিশ্বাস রাখা যে ভূল ছিল, বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী তা প্রকারান্তরে স্বীকার করে নিয়েছেন। বাংলাদেশের কারণে রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের প্রত্যাবাসন শুরু করা যায়নি বলে মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন বলেছেন যে দেশটি মিথ্যাচার করছে।  তাঁর পূর্বসুরি অবশ্য নীতিকৌশলে কোনো ভুলের কথা মানতে রাজি ছিলেন বলে মনে হয় নি। বিশেষত; আর্ন্তজাতিক ফোরামে সমস্যাটির সমাধানের কৌশল অনুসরণের দাবি উঠলেও চীন এবং ভারতের উৎসাহে দ্বিপক্ষীয় ভিত্তিতে সমাধান সন্ধানেই তিনি আস্থা রেখেছিলেন। রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে গত প্রায় দু ‘ বছরে বহু কথা লেখা হয়েছে, আলোচনা হয়েছে। কিন্তু, এই জটিল সংকট এখন আরও জটিলতার দিকে যাচ্ছে কিনা সেই প্রশ্নটি বিবেচনা জরুরি হয়ে পড়েছে। নতুন যে জটিলতার আশংকা দেখা যাচ্ছে তার ইঙ্গিত মেলে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ এশি...

ঘৃণা চাষের উর্বর ভূমি ও রাজনৈতিক সংকট

  দেশে একের পর এক অস্থিরতা সৃষ্টির বেশ কয়েকটি ঘটনা আমরা প্রত্যক্ষ করলাম। এগুলোর কোনোটিই প্রত্যাশিত ছিল না। অনেকেই এগুলো নির্বাচন যাতে প্রধান উপদেষ্টার প্রতিশ্রুত সময়ে না হয়, তার জন্য পরিস্থিতি ঘোলাটে করার অপচেষ্টা হিসাবে বর্ণনা করেছেন। পরিকল্পিতভাবে অস্থিরতা সৃষ্টির পিছনে প্রধানত: দুটি শক্তিকে দায়ী করা হচ্ছে – একটি হচ্ছে পতিত স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের পলাতক নেতৃত্বের সাংগঠনিক উদ্যোগ; অপরটি হচ্ছে, বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ার (সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম) সুবাদে সমাজে প্রভাব বিস্তারে দক্ষতা অর্জনকারী কিছু প্রভাবক ব্যক্তি বা গোষ্ঠী। এসব প্লাটফর্ম বিদ্বেষ ও ঘৃণা ছড়ানোর সবচেয়ে কার্যকর হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।  আপনি যদি কাউকে অপদস্থ বা হেয় করতে চান, তাহলে তার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত স্থান সম্ভবত:  সোশ্যাল মিডিয়ার কোনো একটি প্লাটফর্ম – বাংলাদেশে এটি ফেসবুক এবং ইউটিউব। বৈশ্বিক পরিসরে অবশ্য এক্স (সাবেক টুইটার) এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে আছে। প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারে গণহত্যার শিকার সংখ্যালঘু মুসলিম জনগোষ্ঠী রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে জাতিগত বিদ্বেষ ছড়ানোয় এই সোশ্যাল মিডিয়া কী ভূমিকা রেখেছে, তা জাতিসংঘ তদন্...

How NEIR exposed our lazy journalism

  It is disheartening to see that, as journalists, we are losing both our inquisitiveness and our capacity for critical thinking. Instead, our work is increasingly tilting towards relaying and amplifying pre-processed information— much like the growing fascination with processed foods. Laziness may be partly responsible for this habit. Cooking requires thought, preparation, and labour; processed food, by contrast, sits on shelves or in freezers waiting to be consumed with minimal effort. Lazy journalism is just as convenient: communication experts package information that advances their employers' political or commercial interests and deliver it to journalists—often to familiar faces— through digital communication or courtesy visits.  Professional training and ethics require journalists to examine such processed content critically, rigorously analyse it, ask pertinent questions, verify both current and historical facts, and then reprocess the information for publication or bro...