সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

বাংলাদেশের কূটনীতি নিয়ে ভারতে অস্থিরতা

পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক হঠাৎ করেই আবার আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে তবে, তা যতটা না বাংলাদেশে হচ্ছে, তার চেয়ে অনেক বেশি ঘটছে ভারতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে এখন একধরনের অস্থিরতা এবং উদ্বেগ স্পষ্ট দ্য হিন্দু পত্রিকা(বিস্ময়কর বিভ্রান্তিকর শিরোনামে) জানিয়েছে যে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার গত চার মাস ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাক্ষাৎ চেয়েও তাঁর সঙ্গে দেখা করতে পারেননি (শেখ হাসিনা ফেইলড টু মিট ইন্ডিয়ান এনভয় ডেসপাইট রিকুয়েস্টস: ঢাকা ডেইলি, হিন্দু অনলাইন, ২৫ জুলাই, ২০২০) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে  পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের টেলিফোনের পরই ভারতীয় বিশ্লেষক এবং বুদ্ধিজীবীরা বিষয়টিকে ভারতের জন্য দুঃসংবাদ হিসাবে দেখছেন তাঁদের ভাষ্যমতে ভারত-চীন সামরিক সংঘাতের পটভূমিতে দিল্লি তার প্রতিবেশীদের ওপর থেকে মনোযোগ হারানোর কারণে পাকিস্তান সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করেছে গত এক দশকে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক যখন স্বাধীনতা-উত্তরকালে সেরা অবস্থায় বলে আমরা শুনে আসছি তখন ভারতের রকম উদ্বেগে মনে হয় বাস্তবে বন্ধুত্বের এই ভিত্তিটা হয় তত জোরালো নয়, অথবা কোথাও কোথাও সমস্যা রয়েছে
করোনা মহামারির কালে প্রায় সব দেশেই সামাজিক দূরত্ব এবং স্বাস্থ্যবিধির কারণে সব ধরনের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানাদি বন্ধ রয়েছে অথবা সীমিত আকারে চলছে সুতরাং, প্রধানমন্ত্রী কোনো বিদেশি অতিথি বা কূটনীতিককে সাক্ষাৎ না দিলে তাতে উদ্বিগ্ন হওয়ার কী আছে, তা বোঝা মুশকিল বরং, ধরনের উদ্বেগ সম্পর্কের ক্ষেত্রে অস্বাভাবিকতারই ইঙ্গিত দেয় মনে হয় যেন ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার পূর্ব শর্ত হচ্ছে তাদের সঙ্গে যাদেরই বৈরিতা আছে, রকম কোনো দেশের সঙ্গে আমাদের সুসম্পর্ক থাকতে পারবে না পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশ যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন চলছিল তার কারণ হচ্ছে বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরোধিতা এবং দণ্ডিতদের পক্ষসমর্থন সেই টানাপোড়েনের কারণে কূটনৈতিক যোগাযোগে অবনমন ঘটলেও বাংলাদেশ কিন্তু তার সঙ্গে কখনো সম্পর্ক ছিন্ন করেনি
আঞ্চলিক সহযোগিতা ফোরাম সার্ক প্রায় মরণাপন্ন হয়ে পড়েছিল কী কারণে তা আমাদের সবারই জানা কিন্তু, করোনা মহামারি মোকাবিলার প্রয়োজনে ভারতই আবার সেই সার্কের পুনরুজ্জীবনে উদ্যোগী হয়েছিল সার্ক ছাড়াও পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ ডি নামের আরেকটি জোটের সহযোগী আটটি জনবহুল মুসলিম দেশের জোট ডি কার্যক্রম কতটা আছে বা নেই, কিংবা তাতে বাংলাদেশ লাভবান হচ্ছে কি হচ্ছে না, সেসব প্রশ্ন থাকতেই পারে গত এপ্রিলে ঢাকায় এই জোটের শীর্ষসম্মেলন হওয়ার কথা ছিল, যা মহামারির কারণে স্থগিত হয়ে যায় মহামারি না হলে ইতিমধ্যে এই উপলক্ষে ইমরান খানের ঢাকা সফর হয়ে যাওয়ার কথা ছিল সম্মেলনটি স্থগিত হওয়ার কারণেই হয়তো এই টেলি-সংলাপ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেনের সঙ্গে পাকিস্তানি হাইকমিশনারের বৈঠকে ভারতীয় বিশ্লেষকেরা এতটা বিস্মিত হয়েছেন
ভারতীয় কূটনীতিক এবং বিশ্লেষকেরা এর আগে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হওয়ার বিষয়টি নিয়েও নানারকম বক্তব্য দিয়েছেন, যা অনেক ক্ষেত্রেই অযৌক্তিক এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে শোভন ছিল না চীনের সঙ্গে বৈরিতা তীব্রতর হওয়া এবং প্রতিবেশীদের মধ্যে নেপাল, ভুটান এবং শ্রীলঙ্কার চীনের প্রতি ঝুঁকে পড়ার পটভূমিতে একটি ধারণা চালু আছে যে বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্কের বিষয়টি  ভারতের কাছে অগ্রাধিকার পাবে তবে, বাস্তবতা একেবারেই আলাদা  ভারতের ব্যবসা-বাণিজ্য বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ যেসব সুযোগ-সুবিধা দিয়েছে, তা প্রায় নজিরবিহীন কিন্তু এর বিপরীতে বাণিজ্যিক লেনদেনে ন্যায্যতার প্রশ্নও উপেক্ষিত থেকেছে কিন্তু, এরপরও বিনিয়োগের সুযোগ গ্রহণের দিক থেকে ভারত চীনের থেকে অনেক পিছিয়ে আছে চীনের তুলনায় ভারতের সামর্থ্যগত সীমাবদ্ধতাই হচ্ছে এর কারণ করোনা মোকাবিলায় সহায়তার ক্ষেত্রেও ভারতের থেকে চীন অনেক এগিয়ে আছে সেটাও সামর্থ্যের কারণে চীন আগে থেকেই ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী, মাস্ক, ভেন্টিলেটর এবং টেস্টিং কিট উৎপাদন করতে থাকায় বাড়তি সুবিধা পেয়েছে অন্যদিকে, ভারত যেসব সামগ্রী পাঠিয়েছে তার মধ্যে অন্যতম প্রধান একটি সামগ্রী ছিল ম্যালেরিয়া চিকিৎসার ওষুধ হাইড্রোক্লোরোকুইন - যার ব্যবহার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনা চিকিৎসায়  অনুমোদন করেনি
মহামারির কারণে বিশ্ব অর্থনীতি যখন এক বড় ধরনের মন্দার মুখোমুখি, তখন রপ্তানিনির্ভর দেশ হিসাবে বাংলাদেশের জন্যও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা এবং ঝুঁকি রকম পরিস্থিতিতে চীন তার বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যগুলোর জন্য শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দিয়েছে কিন্তু, ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে বিষয়টিকে বাংলাদেশকে উৎকোচ প্রদানের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে করোনার প্রতিষেধক টিকার পরীক্ষায় যুক্ত হওয়ার জন্য চীনের আহ্বানে বাংলাদেশের ইতিবাচক সাড়া দেওয়াকেও নেতিবাচক দৃষ্টিতে তুলে ধরা হয়েছে ভারতের তরফে ধরনের দৃষ্টিভঙ্গিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে মনে হয় না গত কয়েক বছর ধরে দেশটির ক্ষমতাসীন দল, বিজেপি কথিত অনুপ্রবেশকে রাজনৈতিক ইস্যু বানিয়ে বাংলাদেশবিরোধী যে প্রচার চালিয়ে আসছে, তা দুর্ভাগ্যজনক নিন্দনীয় দলটির সভাপতি অমিত শাহ কথিত অনুপ্রবেশকারীদের উইপোকা অভিহিত করে বহিষ্কারের অঙ্গীকার করেছেন গত বছরে সীমান্ত দিয়ে ভারতের বাংলাভাষী মুসলমানদের কাউকে কাউকে জোর করে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে
ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির রাজনীতিতে কথিত অনুপ্রবেশকারী ইস্যুটি কতটা প্রাধান্য পাচ্ছে, তার একটা দৃষ্টান্ত হচ্ছে নাগরিকত্ব আইন সংশোধন এবং নাগরিকদের জাতীয় রেজিস্ট্রার বা এনআরসি আসামে এই এনআরসিতে ১৯ লাখ বাংলাভাষী নাগরিকত্ব হারানোর ঝুঁকিতে এখন পশ্চিমবঙ্গসহ সারা ভারতেই এনআরসির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে স্বভাবতই বাংলাদেশের জন্য এটি একটি বড় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার বিষয় কিন্তু, সেই উদ্বেগ নিরসনে ভারতের বর্তমান নেতৃত্বের ন্যূনতম আগ্রহ নেই গত বছরের আগস্টে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের দিল্লি সফরের সময়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পর যৌথ বিবৃতিতে যে তাঁরা সম্মত হতে পারলেন না, আলাদা-আলাদা বিবৃতি প্রকাশিত হলো, তা ভারতীয় বিশ্লেষকদের অনেকেই বিস্মৃত হয়েছেন
তারপরও অক্টোবরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিল্লিতে একটি অর্থনৈতিক সম্মেলনে যোগ দিতে গিয়ে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারকে সই করেছেন তিস্তার পানি বণ্টন অনিষ্পন্ন থাকলেও ফেনী নদীর পানি প্রশ্নে ছাড় দিয়েছেন ওই সব সমঝোতার মধ্যে বাংলাদেশের উপকূলে নজরদারির জন্য ভারতীয় রাডার স্থাপনের বিষয়ও রয়েছে কিন্তু, ভারত তার যথার্থ স্বীকৃতি দিতে এখনো কার্পণ্য করে চলেছে একমাত্র যে সীমান্তে বেসামরিক মানুষজন ভারতীয় সীমান্তরক্ষীদের গুলিতে নিহত হচ্ছেন সেটি হচ্ছে  বাংলাদেশের সীমান্ত গত ডিসেম্বরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পূর্বনির্ধারিত দিল্লি সফর বাতিল করেছিলেন এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানও উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মেঘালয়ে তাঁর সফর বাতিল করেছিলেন কিন্তু, গত ছয় মাসে ভারতের তরফে এমন কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি, যাতে আস্থার সংকট দূর হয়েছে বলে প্রমাণ মিলবেপ্রতিবেশীর প্রাপ্য মর্যাদা ও সম্পর্কে ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে না পারলে অন্যদের প্রতি দোষারোপের কোনো সমাধান নেই।
বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে জাতিগত স্বাধিকারের লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে কিন্তু, সেই ইতিহাস সত্ত্বেও সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের আবেগকে উপেক্ষা করে বাংলাদেশ জম্মু-কাশ্মীর প্রশ্নে একেবারে নিশ্চুপ রয়েছে বৃহৎ প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্ককে জোরদার টেকসই করার উদ্দেশ্যে তার নিরাপত্তাগত চাহিদা পূরণে বাংলাদেশের বর্তমান সরকার তার সাধ্যমতো সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে কিন্তু, দৃশ্যমান সুসম্পর্কের নীচে যে অদৃশ্য ফাটল তৈরি হয়েছে তার স্বীকারোক্তি মেলে ভারতের সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা শিবশঙ্কর মেননের বক্তব্যে মি মেনন আনন্দবাজার পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এনআরসি প্রসঙ্গে গত ২১ জুলাই বলেছেনযে ভাবে এই গোটা বিষয়টিকে তুলে ধরা হয়েছে, দেশের অভ্যন্তরে এই নিয়ে বিতর্কের সময়ে এবং সিএএ-এনআরসি এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সময় যা যা বলা এবং করা হয়েছে, তাতে বাংলাদেশের অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং সংবাদমাধ্যমে তাঁদের অসন্তোষ ব্যক্ত করেছেন ভারতের বিভিন্ন সরকার ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশের সঙ্গে যে ঘনিষ্ঠ এবং গঠনমূলক সহযোগিতার কাঠামো তৈরি করেছে, তা যদি  প্রভাবশালী ভারতীয় নেতাদের আঞ্চলিক রাজনৈতিক লাভের জন্য দেওয়া বিবৃতিতে নষ্ট হয়ে যায়, তবে তা লজ্জার
শিবশঙ্কর মেনন কংগ্রেস সরকারের প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা ছিলেন তিনি যে সরকারে দায়িত্ব পালন করেছেন, সেই সরকারও সহযোগিতা কাঠামোর দুর্বলতার জায়গাগুলো অনুসন্ধান করেনি বিজেপি সরকারের সেটা করার সম্ভাবনা যে নেই, তা মোটামুটি এতদিনে স্পষ্ট হয়েছে ধর্মীয় জাতীয়তাবাদের উগ্র রাজনৈতিক ধারায় সেটা যে সম্ভব নয়, ভারতের নাগরিক সমাজ বুদ্ধিজীবীরা সেটুকু অন্তত উপলব্ধি করবেন, সেটাই প্রত্যাশা মি মেননের উপলব্ধিকে তাই স্বাগত জানাতেই হয়
(২৯ জুলাই ২০২০ প্রথম আলো অনলাইনে প্রকাশিত।)

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

রোহিঙ্গাদের জন্য মানচিত্র বদলের প্রস্তাব!

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গার স্বদেশে ফেরার বিষয়ে যেমনটি আশংকা করা হয়েছিল, তেমনটিই ঘটেছে। যত শিগগির সম্ভব তাদেরকে দেশে ফেরানোর কাজ শুরু হবে বলে মিয়ানমারের আশ্বাসে বিশ্বাস রাখা যে ভূল ছিল, বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী তা প্রকারান্তরে স্বীকার করে নিয়েছেন। বাংলাদেশের কারণে রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের প্রত্যাবাসন শুরু করা যায়নি বলে মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন বলেছেন যে দেশটি মিথ্যাচার করছে।  তাঁর পূর্বসুরি অবশ্য নীতিকৌশলে কোনো ভুলের কথা মানতে রাজি ছিলেন বলে মনে হয় নি। বিশেষত; আর্ন্তজাতিক ফোরামে সমস্যাটির সমাধানের কৌশল অনুসরণের দাবি উঠলেও চীন এবং ভারতের উৎসাহে দ্বিপক্ষীয় ভিত্তিতে সমাধান সন্ধানেই তিনি আস্থা রেখেছিলেন। রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে গত প্রায় দু ‘ বছরে বহু কথা লেখা হয়েছে, আলোচনা হয়েছে। কিন্তু, এই জটিল সংকট এখন আরও জটিলতার দিকে যাচ্ছে কিনা সেই প্রশ্নটি বিবেচনা জরুরি হয়ে পড়েছে। নতুন যে জটিলতার আশংকা দেখা যাচ্ছে তার ইঙ্গিত মেলে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ এশি...

ঘৃণা চাষের উর্বর ভূমি ও রাজনৈতিক সংকট

  দেশে একের পর এক অস্থিরতা সৃষ্টির বেশ কয়েকটি ঘটনা আমরা প্রত্যক্ষ করলাম। এগুলোর কোনোটিই প্রত্যাশিত ছিল না। অনেকেই এগুলো নির্বাচন যাতে প্রধান উপদেষ্টার প্রতিশ্রুত সময়ে না হয়, তার জন্য পরিস্থিতি ঘোলাটে করার অপচেষ্টা হিসাবে বর্ণনা করেছেন। পরিকল্পিতভাবে অস্থিরতা সৃষ্টির পিছনে প্রধানত: দুটি শক্তিকে দায়ী করা হচ্ছে – একটি হচ্ছে পতিত স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের পলাতক নেতৃত্বের সাংগঠনিক উদ্যোগ; অপরটি হচ্ছে, বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ার (সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম) সুবাদে সমাজে প্রভাব বিস্তারে দক্ষতা অর্জনকারী কিছু প্রভাবক ব্যক্তি বা গোষ্ঠী। এসব প্লাটফর্ম বিদ্বেষ ও ঘৃণা ছড়ানোর সবচেয়ে কার্যকর হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।  আপনি যদি কাউকে অপদস্থ বা হেয় করতে চান, তাহলে তার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত স্থান সম্ভবত:  সোশ্যাল মিডিয়ার কোনো একটি প্লাটফর্ম – বাংলাদেশে এটি ফেসবুক এবং ইউটিউব। বৈশ্বিক পরিসরে অবশ্য এক্স (সাবেক টুইটার) এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে আছে। প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারে গণহত্যার শিকার সংখ্যালঘু মুসলিম জনগোষ্ঠী রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে জাতিগত বিদ্বেষ ছড়ানোয় এই সোশ্যাল মিডিয়া কী ভূমিকা রেখেছে, তা জাতিসংঘ তদন্...

How NEIR exposed our lazy journalism

  It is disheartening to see that, as journalists, we are losing both our inquisitiveness and our capacity for critical thinking. Instead, our work is increasingly tilting towards relaying and amplifying pre-processed information— much like the growing fascination with processed foods. Laziness may be partly responsible for this habit. Cooking requires thought, preparation, and labour; processed food, by contrast, sits on shelves or in freezers waiting to be consumed with minimal effort. Lazy journalism is just as convenient: communication experts package information that advances their employers' political or commercial interests and deliver it to journalists—often to familiar faces— through digital communication or courtesy visits.  Professional training and ethics require journalists to examine such processed content critically, rigorously analyse it, ask pertinent questions, verify both current and historical facts, and then reprocess the information for publication or bro...