সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

রাজনীতি: ওলট-পালটে নতুন কিছু হবে কি

রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যু হলে তা কীভাবে সবাইকে জানানো হবে বছর দুয়েক আগে গার্ডিয়ান পত্রিকায় তার বিস্তারিত বিবরণ বেরুলে বিষয়টি নিয়ে অনেক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছিল। পাঠক-শ্রোতারা টেরও পান না যে নামী-দামি ব্যাক্তিদের মৃত্যুর অনেক আগেই সাংবাদিকরা তাঁদের জন্য শোকগাঁথা তৈরি করে রাখেন। শুধু মৃত্যুদূতের আগমনের অপেক্ষা। এরপর দেখা যায় মুহুর্তেই মধ্যেই সেই গুণীজনের নানাধরণের অর্জন বা সাফল্য, পাওয়া না-পাওয়া, দু:খ-আনন্দের বিভিন্ন বিবরণের একটা সংকলিত রুপ প্রকাশ করা হয়। তবে, কোনো রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রে এমনটি ঘটেনা। কেননা, কোনো রাজনৈতিক দলের মৃত্যু একদিনে ঘটে না। ধীরে ধীরে তা হয়তো অন্য কোনো দলে বিলীন হয়, নয়তো কয়েক দশক বা প্রজন্ম ধরে ধুঁকতে থাকে। অবশ্য এর ব্যাতিক্রমও আছে। রাষ্ট্র যদি কোনো দলকে বেআইনী ঘোষণা করে তাহলে তার বিলোপ ঘটতে পারে। তবে, রাষ্ট্রীয় নিষেধাজ্ঞায় বিলোপ ঘটলেও সেই দলের পুনরুজ্জীবন যে অসম্ভব নয় বাংলাদেশের ইতিহাসই তার প্রমাণ। ৭৫ এ বিলুপ্ত হওয়া দলগুলো আবার ৭৮- ‘ র পর একে একে আত্মপ্রকাশ করেছে এবং নানাধরণের চড়াই-উৎরাইয়ের মধ্যে দিয়ে তাদের অধিকাংশই টিকে আছে।  রাজনৈতিক দলের আগাম মৃত্...

চিকিৎসকের সাইকোলজিক্যাল চাপ!

ব্রিটেনে চোখের চিকিৎসায় সেরা হাসপাতাল মুরফিল্ডস। তবে, হাসপাতালের সুনাম থাকলেই যে সেরা চিক্রিসা মিলবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। ঐ হাসপাতালের চিকিৎসা সেবার বিষয়ে আমার নিজের অভিজ্ঞতায় কথাটি আমি জোর দিয়েই বলতে পারি। আমার অভিজ্ঞতা যাই হোক, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‍যে সেখানে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে দেশে ফিরছেন সেটা একটা ভালো খবর এবং স্বস্তির কথা। প্রধানমন্ত্রীর চিকিৎসার বিষয়টি নিয়ে সরকারীভাবে কিছুই জানানো হয় নি। বরং, সফরের শুরুতে বলা হয়েছে এটা একটা সরকারী সফর। যুক্তরাজ্যে দশদিনের সরকারী সফর নিয়ে দেশবাসীর মধ্যে কৌতুহল তৈরি হবে সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু, তাতে সরকারের কিছু আসে-যায় বলে মনে হয় না।   তিনি যে লন্ডনে চোখের চিকিৎসা করিয়েছেন সেটা তাঁকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে বাংলা ট্রিবিউন নামের একটি অনলাইন পোর্টাল। পত্রিকাগুলোর খবরে বিষয়টি উহ্য রাখা হয়েছে। বাংলা ট্রিবিউন ৯ মে ‘ দেশের ডাক্তাররা সাইকোলজিক্যাল কারণে অপারেশনের ঝুঁকি নিতে রাজি হননি: প্রধানমন্ত্রী ‘ শিরোনামে লিখেছে নিজের চোখের অপারেশন দেশেই করতে চেয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, “ দেশের ডাক্তাররা সাইকোলজিক্...

বেশি সংখ্যা মানে বেশি স্বাধীনতা নয়

জাতিসংঘের শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা, ইউনেসকো চলতি বছরে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসের মূল প্রতিপাদ্য বা ভাবনার বিষয় হিসাবে বেছে নিয়েছে গণমাধ্যম ও গণতন্ত্র। আরও সুনির্দিষ্ট করে তারা যে বিষয়টিতে নজর দেওয়ার কথা আলোচ্যবিষয়ে তুলে এনেছে তা হচ্ছে ‘ অপপ্রচারের যুগে সাংবাদিকতা ও নির্বাচন ‘ । আমাদের দূর্ভাগ্যই বলতে হবে যে এই বিষয়টিতে বিতর্কটি আমাদের ‘ রাতেরবেলার ভোটের ‘ আগে অনুষ্ঠিত হলে তা থেকে হয়তো আমরা উপকৃত হতে পারতাম। সংবাদমাধ্যমের নির্বাচনী পরীক্ষা য় আমাদের গণমাধ্যমের হতাশাজনক ব্যর্থতার গ্লানি আমাদের বহন করতে হতো না। বিদেশি সংবাদমাধ্যমের কদর বাড়তো না এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রচলিত গণমাধ্যমের চেয়ে বেশি বিশ্বাসযোগ্যতা পেত না। অবশ্য, বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা বলে এধরণের বিষয়ে আইন কিংবা নীতিমালা তৈরির ক্ষেত্রে সরকারের কৌশলের সবচেয়ে লক্ষণীয় উপাদান হচ্ছে, শোনার দরকার শুনব, কিন্তু মানব না। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কথা এখানে স্মরণ করা যেতে পারে। ঘটা করে মন্ত্রীরা সাংবাদিক-সম্পাদকসহ নানাধরণের অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনায় বসলেন, স্বাধীন মতপ্রকাশের পরিপন্থী ও নিবর্তনমূলক কিছু আইনে থাকবে না বলে আশ্বস...

বিএনপির সাংসদদের শপথ প্রশ্নে অবাস্তব প্রত্যাশা

বিএনপির অর্ধডজন সাংসদের পাঁচজন শপথ নিয়ে একাদশ সংসদে যোগ দেওয়ায় যে অবিশ্বাস ও বিস্ময়সূচক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে এটা প্রত্যাশিত ছিল না। কেন তা প্রত্যাশিত ছিল না , সেটা অবশ্য স্পষ্ট নয়। যাঁরা ধারণা করেছিলেন যে বিএনপি শপথ না নেওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় থাকবে, বিএনপির প্রতি তাঁদের এই বিশ্বাস বা আস্থা বিস্ময়কর। শপথ না নেওয়ার বিষয়টি বিএনপির অঙ্গীকার ছিল, নাকি হুমকি ছিল – প্রথমত সেটি বিচার করা দরকার।   বিষয়টিকে দলের নেতাদের অনেকেই একটি অঙ্গীকারের মত করে প্রচার করেছেন। কিন্তু, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ছাড়া ওই ছয়জনের অন্য কেউ শপথ নেবেন না এমন কোনো ঘোষণা দিয়েছেন বলে কোনো খবর চোখে পড়ে নি। বিপরীতে, একটা জোরালো ধারণা তৈরি হয়েছিল যে সরকারের সঙ্গে দরকষাকষির হাতিয়ার হিসাবে হুমকি দিতেই একথাটি বলা হচ্ছে। পাঁচজন সাংসদ এবং দলীয় মহাসচিবের ব্যাখ্যায় এখন প্রমাণ হচ্ছে দ্বিতীয় ধারণাটিই ঠিক ছিল। তবে, দরকষাকষিতে তাঁরা কিছু পেয়েছেন কিনা, দেশবাসীর কি লাভ হলো সেসব প্রশ্ন আলাদা। মির্জা ফখরুলের শপথ না নিয়ে আসন হারানোতে অবশ্য তাঁর দলের অভ্যন্তরীণ সংকটের তীব্রতারই ইঙ্গিত মেলে ।   যাঁরা বিএনপ...

রাজপথে ইউরোপ, আফ্রিকা

১৫ বছরের এক কিশোরী ইউরোপ এবং ইউরোপের বাইরে আলোড়ন তুলেছে। স্কুলের ক্লাস বর্জন করে প্রথমে সে একাই রাস্তায় বসেছে প্রতিবাদ জানাতে। এরপর তার সহপাঠীরা এবং আস্তে আস্তে দেশ এবং দেশের বাইরেও ছাত্র-ছাত্রীরা রাস্তায় নেমে এসেছে। মাত্র কয়েকমাসের মধ্যে সে সুখ্যাতি অর্জন করেছে। মন্ত্রী-সাংসদরা তাঁর কথা শুনছেন, সে জনসভায় বক্তৃতা করছে, ইউরোপীয় পার্লামেন্টে তার ব্ক্তৃতার সময়ে সেই পার্লামেন্ট সদস্যরা মুর্হুমুর্হু করতালি দিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে তাঁকে সম্মান জানিয়েছে। এই কিশোরীর নাম গ্রেটা থর্নবার্গ। ইতোমধ্যেই তাকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়ার প্রস্তাব উঠেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে পৃথিবীর ধ্বংস হবে জেনেও রাজনীতিকরা কিছু করছেন না বলে তার অভিযোগ এবং সেকারণেই তার প্রতিবাদ। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের বক্তৃতায় রাজনীতিকদের কাছে তার প্রশ্ন ছিল ব্রেক্সিটের মত বিষয়ে তোমরা যতটা সময় দিয়েছো, মাথা ঘামাচ্ছো, আমাদের ধরিত্রীকে অনিবার্য ধ্বংস থেকে রক্ষা করতে তার কত ভাগ সময় ব্যয় করেছো? জ্বালানি তেল, কয়লা এবং ক্ষতিকর গ্যাস নির্গমন শিল্পে পুঁজি বিনিয়োগকারীরা ইতোমধ্যেই অস্থির হয়ে উঠেছেন। ডানপন্থী গণমাধ্যমগুলো, এমনকি, সে মানসি...

প্রার্থীদের হলফনামা যাচাই হবে কবে ?

বাংলাদেশ থেকে বিদেশে টাকা পাচারের বিষয়ে এত দিনের আলোচনা-বিতর্ক সবই যখন অর্থহীন হয়ে উঠছিলো তখন দূর্নীতি দমন কমিশনকে ধন্যবাদ যে তাঁরা বিষয়টিতে নতুন করে মনোযোগী হয়েছেন। কমিশনের আরও বেশি করে ধন্যবাদ প্রাপ্য যে তাঁরা বিদেশে টাকা পাচারের বিষয়ে প্রচলিত ধারণার বাইরেও রাষ্ট্রের দূর্বলতার অন্য একটি দিক প্রকাশ করে দিয়েছেন। বিদেশে টাকা পাচারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহণে তাঁরা যদি রাজনৈতিক বিবেচনার বাইরে বেরুতে সক্ষম হন তাহলে নিশ্চয় তাঁরা আরও বেশি বাহবা পাবেন! এত দিন আমরা জেনে এসেছি – বাংলাদেশ থেকে বিদেশে টাকা পাচার হচ্ছে দুই উপায়ে - আমদানী-রপ্তানির হিসাবে জালিয়াতি অর্থাৎ, আন্ডার ইনভয়েসিং কিম্বা ওভার ইনভয়েসিংয়ে, নয়তো হুন্ডির মাধ্যমে। কমিশন সম্প্রতি বিএনপির স্বেচচ্ছানির্বাসিত নেতা তারেক রহমান ও তাঁর স্ত্রীর ইংল্যান্ডের তিনটি ব্যাংক হিসাবের বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ায় জানা গেল ব্যাংকিং লেনদেনের মাধ্যমে ব্যাক্তিগত হিসাবেও বিদেশে টাকা পাচার ঘটছে। কমিশন মামলাটি না করলে হয়তো জানাই যেতো না যে ব্যাংকিংখাতের গলদ আওয়ামী লীগ শাসনের ১০ বছরেও দূর হয় নি। দেশের বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী ব্যাংকিং মাধ্যমে ...

হাতিরঝিল ক্যান্সারের সহনীয় নিরাময় !

রাষ্ট্রের ওপর একটি স্বার্থভিত্তিক গোষ্ঠীর বেআইনী প্রভাব খাটানোর প্রতীকটি প্রায় ২১ বছর পর দখলমুক্ত হয়েছে। রাজধানীর হাতিরঝিলে বিজিএমইএ ভবনটিকে এখন নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। সোজা কথায় আদালতের হস্তক্ষেপে সরকারী জায়গা সরকারের কাছে ফেরত এসেছে। তবে, জায়গাটির ওপর বেআইনীভাবে নির্মিত ১৬তলা স্থাপনাটি যাঁরা তৈরি করেছিলেন তাঁরা আদালতের নির্দেশমত ভবনটি সরিয়ে নিতে পারেন নি। এরকম একটি ভবন কারো পক্ষে সরিয়ে নেওয়া সম্ভবও নয়। এটি অপসারণের একমাত্র পথ হচ্ছে তা ধ্বংস করে তার আবর্জনা সরিয়ে ফেলা, যার খরচ বিজিএমইএকেই বহন করোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   পুরো ভবনটি কখন, কীভাবে ভাঙা হবে, তা এখন রাজউকের মাথাব্যাথা। ১৯৯৮ সালে যখন এই ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু হয় তখন থেকে শুরু করে ২০১১ সালে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ এই ভবনটিকে অবৈধ ঘোষণার পূর্ব পর্যন্ত পালাক্রমে যতগুলো সরকার ক্ষমতায় এসেছে তারা কেউই এই বেআইনী দখলদারি উচ্ছেদের কোনো উদ্যোগ নেয় নি। প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল – আওয়ামী লীগ ও বিএনপি – উভয় দলেই পোশাক শিল্প মালিকদের উল্লেখযোগ্য প্রভাব থাকাই যে এর কারণ তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এম...