সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ভিভিআইপি লেনের কথাও ভাবুন!

মন্ত্রীসভায় গুরুত্বর্পূণ ব্যাক্তি ও জরুরি সেবাখাতের জন্য রাজধানী ঢাকার রাস্তায় আলাদা লেন করার প্রস্তাব ওঠায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল সমালোচনা শুরু হয়েছে। যাঁরা 'উন্নয়ন দেখেন না' কিম্বা 'গাধার মত সরকার পতনের অপেক্ষায় থাকেন', তাঁরাই কেবল এমনটি বলতেই পারেন। যুক্তরাষ্ট্র বা ব্রিটেনের মত উন্নত দেশগুলোতেও এরকম কিছু নেই বলে যাঁরা যুক্তি দিচ্ছেন তাঁরা ভুলে গেছেন ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ উন্নত দেশের নতুন এক নজির স্থাপন করবে।

অন্যদেশে ভিআইপি লেন নেই বলে ঢাকায় থাকতে পারবে না এমন ধারণা যাঁরা পোষণ করেন তাঁরা কি অন্য আরেকটি দেশের নাম বলতে পারবেন যেখানে মন্ত্রী-এমপি-সচিব সাহেবরা রাস্তার উল্টোদিকে গাড়ি চালান? সাংবাদিকরাও ভিআইপি হয়ে যান এবং ‍পুলিশ কনস্টেবল উল্টোপথে যেতে না দিলে ইন্সপেক্টর জেনারেলকে ফোন করেন?  

সময় রক্ষার জন্য ভিআইপিরা উল্টোপথে গাড়ি নিয়ে গেলে টেলিভিশন ক্যামেরা নিয়ে দিনের পর দিন প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তাদের সরাসরি সম্প্রচরে জনসম্মক্ষে হেনস্থা হওয়া থেকে মুক্তির বিকল্প কি? ভিআইপি লেন হলে তাঁদের তো আর উল্টোপথে চলতে হবে না? আইন অমান্যের অভিযোগও শূণ্যের ঘরে নেমে আসবে। আইনের শাসনের সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১১৩ এর মধ্যে আর ১০২ এ নামবে না। সেখানেও নিশ্চিতভাবে ব্যপক উন্নতি হবে। বিশ্ববিদ্যালয় এবং বড় বড় কলেজগুলোর ছাত্রদের বহনকারী বাসগুলো নিয়েও আর সরকারের প্রিয় এবং অনুগত উপাচার্য্যদের বিব্রত হতে হবে না।

ভাবনার বিষয় অবশ্য অন্যখানে। বাংলাদেশের ভিআইপির সংখ্যাতেও সম্প্রতি নাটকীয় উন্নতি হয়েছে। ফলে, ভিআইপি লেনে ক্রমবর্ধমান ভিআইপিদের সবার গাড়ির স্থান সংকুলান হবে কিনা, সেটাই একটা বড় প্রশ্ন। পোশাক রপ্তানিকারকদের সমিতি বিজিএমইএ, ব্যাংক পরিচালকদের সমিতি, বণিকসভার নেতারা সবাই সিআইপি এবং এঁরা সবাই ভিআইপির মর্যাদা ভোগ করেন। এর সঙ্গে আছেন সরকার-সমর্থক পেশাজীবি সংগঠনগুলোর নেতারাও। 

আমরা জানি সচিবদের সংখ্যা এতো বেশি হয়ে গেছে যে অনেকেরই আসল কোনো পদায়ন হয়নি। সচিবদের ভিড়ে অতীব গুরুত্বর্পূণদের আলাদা করে যাতে চেনা যায় সেজন্যে তৈরি হয়েছে সিনিয়র সচিবের পদ। সুতরাং, সরকারের আসলে একইসঙ্গে ভিভিআইপি লেনের কথাও ভাবা উচিত। বিমানবন্দরের ভিভিআইপি লাউঞ্জের মত অচিরেই অতি অতীব গুরুত্বর্পূণদের আলাদা লেন প্রয়োজন হবে। ফেসবুকে অবশ্য একজন লিখেছেন (যে তথ্যটি অন্য কোন সূত্র থেকে যাচাই করা যায় নি) উত্তর কোরিয়ায় নাকি শুধুমাত্র গ্রেট লিডারের জন্যই একটি আলাদা লেন আছে!


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ঘৃণা চাষের উর্বর ভূমি ও রাজনৈতিক সংকট

  দেশে একের পর এক অস্থিরতা সৃষ্টির বেশ কয়েকটি ঘটনা আমরা প্রত্যক্ষ করলাম। এগুলোর কোনোটিই প্রত্যাশিত ছিল না। অনেকেই এগুলো নির্বাচন যাতে প্রধান উপদেষ্টার প্রতিশ্রুত সময়ে না হয়, তার জন্য পরিস্থিতি ঘোলাটে করার অপচেষ্টা হিসাবে বর্ণনা করেছেন। পরিকল্পিতভাবে অস্থিরতা সৃষ্টির পিছনে প্রধানত: দুটি শক্তিকে দায়ী করা হচ্ছে – একটি হচ্ছে পতিত স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের পলাতক নেতৃত্বের সাংগঠনিক উদ্যোগ; অপরটি হচ্ছে, বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ার (সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম) সুবাদে সমাজে প্রভাব বিস্তারে দক্ষতা অর্জনকারী কিছু প্রভাবক ব্যক্তি বা গোষ্ঠী। এসব প্লাটফর্ম বিদ্বেষ ও ঘৃণা ছড়ানোর সবচেয়ে কার্যকর হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।  আপনি যদি কাউকে অপদস্থ বা হেয় করতে চান, তাহলে তার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত স্থান সম্ভবত:  সোশ্যাল মিডিয়ার কোনো একটি প্লাটফর্ম – বাংলাদেশে এটি ফেসবুক এবং ইউটিউব। বৈশ্বিক পরিসরে অবশ্য এক্স (সাবেক টুইটার) এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে আছে। প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারে গণহত্যার শিকার সংখ্যালঘু মুসলিম জনগোষ্ঠী রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে জাতিগত বিদ্বেষ ছড়ানোয় এই সোশ্যাল মিডিয়া কী ভূমিকা রেখেছে, তা জাতিসংঘ তদন্...

ডাকসু নির্বাচন ঘিরে কিছু জরুরি প্রশ্ন

  দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্র সংসদের নির্বাচন ঘিরে যে রাজনৈতিক আবহ তৈরি হয়েছে, তা একইসঙ্গে যেমন উপভোগ্য হয়ে উঠেছে, তেমনি কিছুটা উদ্বেগেরও কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র সংসদ কী, অনেকগুলো প্রজন্মের তা জানারই সুযোগ হয়নি। অনেক বছর ধরে এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীরা ভোটাধিকার চর্চার সুয়োগ পায়নি। ছাত্র–জনতার অভ্যূত্থানে ক্ষমতাচ্যূত শেখ হাসিনার আমলে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একবার ছাত্র সংসদ নির্বাচন হলেও তা নিয়ে অনেক প্রশ্ন ও বিতর্ক রয়েছে। এই পটভূমিতে এবারে অনুষ্ঠেয় ছাত্র সংসদগুলোর নির্বাচন নিয়ে উৎসাহ ও উদ্দীপনার পাশাপাশি উদ্বেগ–উৎকন্ঠা থাকা খুবই স্বাভাবিক। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের যে স্বৈরতান্ত্রিক রুপান্তর, তার বিরুদ্ধে দীর্ঘ দেড় দশক ধরে নিরন্তর সংগ্রাম করে যখন গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলো ক্লান্তি ও হতাশার শিকার হওয়ার মুখে ঠিক তখনই ছাত্র–তরুণেরা বিপুল প্রাণশক্তি যোগান দিয়ে আন্দোলনকে গণঅভ্যূত্থানের রুপ দিতে সক্ষম হয়। সেই তরুণদের সবচেয়ে অগ্রসর অংশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের একান্তই নিজস্ব নির্বাচন উৎসব ইতিমধ্যেই দেশে এবং ...

ভারতে ’বাংলাদেশি ভাষা’ বিতর্ক, পুশ–ইন ও প্রতিক্রিয়া

  দিল্লি পুলিশ একটি চিঠিতে বাংলা ভাষাকে 'বাংলাদেশি ভাষা' হিসেবে উল্লেখ করায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায় 'বাংলা ভাষাকে বাংলাদেশি ভাষা বলা কলঙ্কজনক, অপমানকর, দেশবিরোধী এবং অসাংবিধানিক কাজ। এটি ভারতের সব বাংলাভাষী মানুষকে অপমান করে। তারা আমাদেরকে হেয় করে (চিঠিতে) এমন ভাষা ব্যবহার করতে পারে না।'  দিল্লির পুলিশ যে চিঠিতে বাংলাকে বাংলাদেশি ভাষা বলেছে, সেটি বাংলাভাষী কয়েকজনকে জোর করে বাংলাদেশে পাঠানোর উদ্দেশ্যে একটি এফআইআর তদন্তের নথি অনুবাদ সম্পর্কিত। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের দিল্লিতে যে পান্থশালা আছে, সেখানকার কর্মকর্তাদের সাহায্য চাইতেই ওই চিঠি। চিঠিটি জুলাইয়ের ২৯ তারিখের। কিন্তু তার মাসখানেকের আগে থেকে মমতা বন্দোপাধ্যায় বাংলাভাষী ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশি তকমা দিয়ে জোর করে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন।  দিল্লিতে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার পশ্চিম বঙ্গ ও আসামের রাজ্য বিধানসভার আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে সংখ্যালঘু মুসলমান বাংলাভাষীদের অবৈধ অভিবাসী হিসাবে চিহ্নিত করে যে জোরপূর্বক ঠেলে দেওয়ার কাজ শুরু কর...